বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) আমতলার অফিসে বুলডোজার চলেছে। এই নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে জোর শোরগোল পড়েছিল। সেদিনই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। রবিবার সেই মামলাতেই বড় নির্দেশ দেয় আদালত।
হাইকোর্টের নির্দেশে স্বস্তিতে অভিষেক | (Calcutta High Court)
আমতলার পার্টি অফিসে বুলডোজার চলতেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ। রবিবার ছুটির দিনেই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানান অভিষেকের আইনজীবী। প্রথমে দুপুর ১২টায় শুনানি শুরু করার কথা ছিল। তবে রাজ্যের আইনজীবী উপস্থিত না থাকার কারণে সেই সময় শুনানি শুরু করা যায়নি। পরবর্তীতে দুপুর দেড়টা নাগাদ বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হয়।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবিপূরণ! সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করল সরকার
শুনানিতে জোরালো সওয়াল করেন লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের আইনজীবী কিশোর দত্ত। পাল্টা দেন রাজ্যের আইনজীবীও। দুই পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর অভিষেকের আমতলার পার্টি অফিস ভাঙার উপর স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী বলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া অবধি নতুন করে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এছাড়া এই মামলায় আবেদন জানানো হয়েছিল, আমতলার ওই ভবন থেকে কিছু জিনিসপত্র নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। সেখানে লুঠপাট চালানো হয়েছে। নিয়ে যাওয়া জিনিসগুলি ফেরত দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল। যদিও সেই আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি জানান, পুলিশের ওই পদক্ষেপে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করবে না আদালত।
অভিষেকের আমতলার পার্টি অফিস নিয়ে অভিযোগ আজকের নয়। রাজ্যে পালাবদলের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি জেলা পরিষদে অভিযোগ করেন, পাঁচতলা ওই ভবন নকশা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে গত ৩০ জুন লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের ডিরেক্টর তথা অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠানো হয়। ওই সম্পত্তি লিপস অ্যান্ড বাউন্ডসের নামেই রয়েছে।

একইসঙ্গে সুশান্ত মণ্ডল ও মতিউর রহমান মল্লিককেও নোটিশ পাঠানো হয়। গত ১৫ জুলাই দুপুর ২টোর সময় অভিযুক্ত ও অভিযোগকারী দুই পক্ষকেই হাজির হতে বলা হয়েছিল। তবে হাজিরা দেননি অভিষেকের বাবা। এরপর তাঁকে আরও একটি নোটিশ দেয় জেলা প্রশাসন। সেখানে পার্টি অফিস ভেঙে ফেলা হবে বলে জানানো হয়েছিল।
সেই মতো গত শনিবার সকাল থেকে অভিষেকের পার্টি অফিস ভাঙার কাজ শুরু হয়। রবিবার সকালেও সেই প্রক্রিয়া চলছিল। পরবর্তীতে পার্টি অফিস ভাঙায় হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিলে সেই কাজ বন্ধ হয়।













