বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) নিয়ে বিরাট নির্দেশ দিল রাজ্য। এই শংসাপত্র ইস্যু এবং পুনরায় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পুরনো জমির দলিল (Land Deed) চাওয়া বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের তরফে এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতিগত শংসাপত্র নিয়ে বিরাট নির্দেশ | (Caste Certificate)
জানা গিয়েছে, জাতিগত শংসাপত্রের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জেলায় ১৯৫০ সালের আগের জমির দলিল চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। এরপরেই বড় পদক্ষেপ নেয় রাজ্য। নবান্নের তরফে রাজ্যের সব জেলার জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জাতিগত শংসাপত্রের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নথি চাওয়া আবশ্যিক নয়।
আরও পড়ুনঃ ১০০ নয়, চার কিস্তিতে বকেয়ার ৮৫%! DA মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আবেদন রাজ্যের
রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের নির্দেশিকায় ২০১৪ এবং ২০১৫ সালে দফতরের দেওয়া নির্দেশিকার কথা স্মরণ করানো হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতিগত শংসাপত্রের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর জাতিগত পরিচয় কিংবা বসবাসের প্রমাণের জন্য পুরনো জমির দলিল বাধ্যতামূলক নয়। জাতিগত শংসাপত্র ইস্যু ও পুনরায় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে রাজ্য জুড়ে একই নীতি কার্যকর করার জন্য নয়া নির্দেশ বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে বুধবার রাজ্যের ওবিসি-সিদ্ধান্তে শিলমোহর দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে আপাতত হস্তক্ষেপ করেনি উচ্চ আদালত। ফলে গত ১৮ মে যে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল সেটাই বহাল থাকল।
হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি রাজশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ওবিসি তালিকা থেকে আপাতত বাদ থাকবে ৭৪টি জনগোষ্ঠী, অন্তর্ভুক্ত থাকবে ৬৬টি। তবে যে জনগোষ্ঠীগুলি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের মধ্যে কেউ আর কোনও দিন তালিকায় স্থান পাবে না এমনটা রাজ্য বলেনি।

ওবিসি মামলার গতকালের শুনানিতে হাইকোর্ট জানায়, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এদিকে আগেই এই মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রত্যাহার করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। ফলে হাইকোর্টের রায়ের উপর সুপ্রিম-স্থগিতাদেশ এই মুহূর্তে অস্তিত্বহীন। উচ্চ আদালতের মূল রায় বহাল। সেই রায়কেই মান্যতা দিয়েছে বিজেপি সরকার।
অন্যদিকে ইতিমধ্যেই জাতিগত শংসাপত্র নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন রাজ্য সরকার। নয়া নির্দেশের ফলে একদিকে যেমন সারা রাজ্য জুড়ে জাতিগত শংসাপত্রের ক্ষেত্রে একই নীতি কার্যকর হবে, তেমনই সাধারণ মানুষেরও সুরাহা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।













