বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল শঙ্করপুরের একটি ট্রলার। খারাপ আবহাওয়ার কারণে ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। পরে গভীর সমুদ্র থেকে উদ্ধার হয় দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলার। এই ঘটনায় অনেক মৎস্যজীবীর মৃত্যু হয়েছে, এখনও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি চাকরিরও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
কীভাবে ঘটেছিল ট্রলার দুর্ঘটনা?
চলতি মাসের ২ তারিখ শঙ্করপুর মৎস্য বন্দর থেকে ‘মা কালী’ নামে একটি ট্রলার ইলিশ মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে রওনা হয়েছিল। কিন্তু যাওয়ার পর থেকেই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে। কয়েকদিন পর ট্রলারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান ট্রলারে থাকা মৎস্যজীবীদের পরিবার। শুরু হয় তল্লাশি। ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে একসঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
অনেক খোঁজের পর বকখালি থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে গভীর সমুদ্রে ডুবে থাকা অবস্থায় ট্রলারটির সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর ধাপে ধাপে মৎস্যজীবীদের দেহ উদ্ধার করা হয়। এখনও পর্যন্ত ১৪ জন মৎস্যজীবীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আরও দুইজনের খোঁজ এখনও চলছে।
পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হল ৫ লক্ষ টাকার চেক
এই দুর্ঘটনার পর মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পাশে থাকার কথা জানিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই অনুযায়ী রবিবার রামনগর বিডিও অফিসে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সেখানেই মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেওয়া হয়। ওড়িশার তিন মৎস্যজীবীর পরিবার-সহ ক্ষতিগ্রস্ত সব পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৃত ১৩ জন মৎস্যজীবীর পরিবারের একজন সদস্যকে সরকারি চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনকে।

আরও পড়ুনঃ সোশ্যাল মিডিয়ায় ২৪ ঘণ্টা নজরদারি! ভুয়ো খবর ও গুজব রুখতে বিশেষ ‘ওয়ার রুম’ গঠন শুভেন্দু সরকারের
মৎস্যজীবীদের পাশে থাকার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মৎস্যজীবী পরিবারগুলির পাশে থাকবে রাজ্যের মৎস্য দফতর। দুর্ঘটনায় যেসব পরিবার তাদের আপনজনকে হারিয়েছে, তাদের সাহায্য পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে (Suvendu Adhikari)।













