বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, আদানি গ্রুপ (Adani Group) ব্রিটেনে (Britain) একটি বড় অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদানি গ্রুপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন তথা APSEZ (Adani Ports and Special Economic Zone Limited) ব্রিটেনের বৃহত্তম বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড ব্রিটিশ পোর্টস (ABP)-কে অধিগ্রহণের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। গৌতম আদানির কোম্পানির লক্ষ্য হল ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বের বৃহত্তম ট্রান্সপোর্ট ইউটিলিটি হিসাবে বিবেচিত হওয়া এবং ব্রিটেনে এই অধিগ্রহণটি সেই কৌশলেরই একটি অংশ। APSEZ হল ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থা তথা প্রাইভেট পোর্ট অপারেটর।
বড় পরিকল্পনা আদানি গ্রুপের (Adani Group):
সূত্রকে উদ্ধৃত করে ET-র একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, ABP-র প্রায় ৬৩.৯ শতাংশ কন্ট্রোলিং অংশীদারিত্ব বর্তমানে বিক্রির জন্য উপলব্ধ রয়েছে। এই অংশীদারিত্ব বর্তমানে ২ টি কানাডিয়ান পেনশন ফান্ডের হাতে রয়েছে। উভয়ই তাদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করার জন্য ব্যাঙ্কার নিয়োগ করেছে। জানিয়ে রাখি যে, কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড (CPPIB) ABP-র ৩০ শতাংশ এবং অন্টারিও মিউনিসিপ্যাল এমপ্লয়িজ রিটায়ারমেন্ট সিস্টেম (OMERS) ৩৩.৮৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

আর কার কার অংশ রয়েছে: ABP-র অন্যান্য শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুরের স্যুভেরিন ওয়েলথ ফান্ড GIC (২০ শতাংশ), কুয়েত ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির মালিকানাধীন রেইন হাউস ইনফ্রাস্ট্রাকচার (১০ শতাংশ) এবং অ্যাসেট ম্যানেজার হার্মিস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের মালিকানাধীন অ্যাঙ্কোরেজ পোর্টস এলএলপি। এদিকে, ইতিমধ্যে এই বিষয়টির পরিপ্রেক্ষিতে APSEZ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, ‘আমরা ক্রমাগত এমন সুযোগগুলি মূল্যায়ন করি যা আমাদের দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং প্রত্যেক অংশীজনের জন্য টেকসই মূল্য তৈরি করে। নীতিগতভাবে আমরা বাজার সংক্রান্ত জল্পনা বা গুজবের ওপর কোনও মন্তব্য করি না।’
আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু করেন দৌড়ানো! কমনওয়েলথ গেমসে রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের
এদিকে, ABP-নিয়ন্ত্রিত বন্দরগুলি ব্রিটেনের সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিচালনা করে। ২০২৫ সালে, এই ২১ টি বন্দর ৪২.৫ মিলিয়ন টন বাল্ক কার্গো এবং ৩.১ মিলিয়ন ইউনিটাইজড কার্গো পরিচালনা করেছে। এর থেকে ৮১৯.৮ মিলিয়ন পাউন্ড রেভিনিউ এবং ৫৮৬.৫ মিলিয়ন পাউন্ড অপারেটিং প্রফিট অর্জিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আদানি পোর্টস ভারতে ১৫ টি মাল্টি-কমোডিটি পোর্টসের একটি নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। যেগুলির পণ্য ওঠানামার ক্ষমতা ৬৫৩ মিলিয়ন টন। এছাড়াও, কোম্পানিটি ৪ টি আন্তর্জাতিক বন্দরও পরিচালনা করে। সেগুলি হল ইজরায়েলের হাইফা, তানজানিয়ার দার এস সালাম, কলম্বোর কলম্বো ওয়েস্ট ইন্টারন্যাশনাল টার্মিনাল এবং অস্ট্রেলিয়ার নর্থ কুইন্সল্যান্ড এক্সপোর্ট টার্মিনাল। এগুলির ধারণক্ষমতা ১৪৪ মিলিয়ন টন। ২০২৬ অর্থবর্ষে APSEZ ৫০১ মিলিয়ন টন কার্গো হ্যান্ডেল করেছে।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ায় এবার বাঙালি কোচের এন্ট্রি! গৌতম গম্ভীরের নতুন সহকারী হলেন শুভদীপ ঘোষ
১ লক্ষ কোটি টাকার ক্যাপেক্স: জানিয়ে রাখি যে, APSEZ-এর লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে এর পণ্য পরিবহণের ক্ষমতা ১ বিলিয়ন টনে বৃদ্ধি করা এবং ততদিনে ৮৫০ মিলিয়ন টন পণ্য পরিবহণ করার প্রত্যাশাও করা হচ্ছে। সংস্থাটি তার মেরিন সার্ভিস বিজনেস সম্প্রসারণের জন্য টাগবোট এবং অফশোর সাপোর্ট ভেসেলের বহর বাড়াচ্ছে। বর্তমানে সংস্থাটির কাছে ১৩৬ টি এমন জাহাজ রয়েছে এবং এই সংখ্যা বাড়িয়ে ২০০-রও বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে। APSEZ জানিয়েছে যে, সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আগামী ৫ বছরে তারা ১ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে, অভ্যন্তরীণ বন্দর ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৬৩,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বন্দর সম্প্রসারণ সেক্টরে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার তথা মূলধনী ব্যয় ৭,০০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি মূলত কলম্বো টার্মিনালের দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্মাণের জন্য। এর আওতায় কৌশলগত একত্রীকরণ ও অধিগ্রহণ অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও মার্চ মাসের শেষে বন্দর পরিচালনাকারী সংস্থাটির কাছে ১২,১৯৩ কোটি টাকার নগদ ও নগদসদৃশ সম্পদ ছিল। সংস্থাটির মোট দেনাও রয়েছে ৫৫,১০৩ কোটি টাকা।













