বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার রেলপথ (Indian Railways) সম্পর্কিত একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, সরকার চিন (China), পাকিস্তান (Pakistan) ও বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী রেলপথের আধুনিকীকরণের ৪৫০ বিলিয়ন টাকার একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ব্লুমবার্গের এক রিপোর্ট অনুসারে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পাঞ্জাব থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, আসাম এবং উত্তর-পূর্বের বেশ কয়েকটি রাজ্যে নতুন ট্র্যাক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ এবং নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। জানিয়ে রাখি যে, আগামী ২ বছরে রেল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের প্রায় ২২ শতাংশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে রেল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য ব্যয় করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।
এবার চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তেও পৌঁছে যাবে ট্রেন (Indian Railways):
উল্লেখ্য যে, চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কিছুটা হলেও প্রভাবিত হয়েছে। ৬ বছর আগে এক প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর থেকে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এদিকে, গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গেও একটি সংঘর্ষ ঘটেছিল। অন্যদিকে ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এ আবহে বিনিয়োগ পরিকল্পনাটির বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো ইমেইলের কোনও জবাব দেয়নি রেল মন্ত্রক।

এই পরিকল্পনার সুবিধা: মূলত, এই বিপুল বিনিয়োগ সীমান্ত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে এবং সামরিক অভিযান সহজ করবে। হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল থেকে শুরু করে শিলিগুড়ি করিডোর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে উচ্চ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন সর্ব-ঋতু উপযোগী রেল নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা হচ্ছে। গত ১০ বছরে প্রায় ১,৭০০ কিলোমিটার রেললাইন যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, হেলিকপ্টার এবং সামরিক বিমানের ব্যবহারের জন্য অ্যাডভান্স ল্যান্ডিং গ্রাউন্ডস ফের চালু করা হয়েছে। এগুলির মধ্যে অনেকগুলি ১৯৬২ সাল থেকে বন্ধ ছিল।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা সফরের আগে টিম ইন্ডিয়ায় জোড়া ধাক্কা! ছিটকে গেলেন বুমরাহ, ফিট নন আরও এক তারকা খেলোয়াড়
জানিয়ে রাখি যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে সংযোগ স্থাপনে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। কাশ্মীর উপত্যকায় ইতিমধ্যেই ট্রেন পৌঁছে গেছে। অন্যদিকে উত্তরাখণ্ডে চিন সীমান্তের কাছে ট্রেনের কাজ চলছে। পাকিস্তান সীমান্ত বরাবর মোট ১,৪৫০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়াও, ডোকলামের কাছের সড়কগুলিরও উন্নয়ন করা হচ্ছে। ডোকলাম হল ভারত সীমান্তের নিকটবর্তী একটি এলাকা, যার ওপর চিন ও ভুটান উভয়ই নিজেদের অধিকার দাবি করে।
আরও পড়ুন: ১,১৩৩ দিনে ১২৭ টি শুনানি! অবশেষে মহিলা কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্থা মামলায় বেকসুর খালাস ব্রিজভূষণ
চিনের পদক্ষেপ: ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে ডোকলাম সামরিক সংঘাতের পর থেকে চিনও সীমান্তে নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করেছে। দেশটি সীমান্তের কাছে বিমানবন্দর ও হেলিপোর্টের মতো দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য পরিকাঠামো নির্মাণ করছে। এর ফলে চিনা সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই বিষয়টি মাথায় রেখে ভারতও সীমান্তে পরিকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছে।
















