বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারত (India) এবার একটি বড় পরিকল্পনার পথে হাঁটছে। মূলত, ভারত সেইসব বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য ২০৪১ সাল পর্যন্ত ঘর ছাড়ের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে যারা কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে। এটি Apple-এর জন্যও একটি বড় বিষয়। এই সংস্থাটি বিষয়টি বিবেচনার জন্য তদবির করেছিল এবং বর্তমান বাজারে সংস্থাটি দ্রুত নিজেদের ব্যবসা প্রসারিত করছে। ভারত Apple-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার। সংস্থাটি ইতিমধ্যেই চিন ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে iPhone-এর উৎপাদন সম্প্রসারণ করছে।
এবার ভারতেই (India) তৈরি হবে সবথেকে বেশি iPhone:
কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের মতে, ভারত ২০২৬ সালে বিশ্বের ২৬ শতাংশ iPhone উৎপাদন করবে। যেখানে ৪ বছর আগে এই হার ছিল মাত্র ৬ শতাংশ। রয়টার্সের দেখা প্রস্তাবিত কর পরিবর্তনের একটি খসড়া অনুযায়ী, ‘(কর) নিশ্চয়তা’ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার ভারতে কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের সরঞ্জাম সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থাগুলির কর ছাড়ের মেয়াদ ৩১ মার্চ, ২০৪১ পর্যন্ত বাড়িতে চাইছে। জানিয়ে রাখি যে, ভারত ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য কর ছাড় চালু করেছে। যা কেবল ২০৩১ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এমতাবস্থায়, Apple আয়কর আইন পরিবর্তনের জন্য ভারত সরকারের কাছে তদবির করেছিল, যাতে এটা নিশ্চিত করা যায় যে, কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের সরবরাহ করা উচ্চমানের iPhone যন্ত্রপাতির ওনারশিপের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে যেন কর দিতে না হয়। Apple আশঙ্কা করেছিল যে, ভারতের কর আইন কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের সরবরাহ করা যন্ত্রপাতির ওনারশিপকে একটি ‘বিজনেস কানেকশন’ হিসাবে গণ্য করতে পারে। যার কারণে iPhone থেকে হওয়া লাভের ওপর কর আরোপ করা হতে পারে।

খুচরো যন্ত্রাংশ সংরক্ষণে কর অব্যাহতি: খসড়া বিল অনুযায়ী, এই বর্ধিত কর অব্যাহতি মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে ট্যাবলেট, ল্যাপটপ, শ্রবণযন্ত্র এবং পরিধানযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। বিলটি সংসদের নিম্ন ও উচ্চ উভয় কক্ষেই পাস হতে হবে। ভারত ২০৪১ সাল পর্যন্ত কনট্রাক ম্যানুফ্যাকচারারদের কাছে এই ধরণের ইলেকট্রনিক সামগ্রী তৈরির যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ ও সরবরাহ থেকে অর্জিত আয়ের ওপর বিদেশি কোম্পানিগুলিকে কর থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন: এবার চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সীমান্তেও পৌঁছে যাবে ট্রেন! ৪৫,০০০ কোটির মেগা প্ল্যান ভারতের
এদিকে, এই নিয়মটি তথাকথিত কাস্টমস-বন্ডেড এলাকায় অবস্থিত কারখানা ও গুদামগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেগুলিকে প্রযুক্তিগতভাবে ভারতের শুল্ক অঞ্চলের বাইরে বলে গণ্য করা হয়। এই ধরণের কারখানা থেকে তৈরি ডিভাইস ভারতের অভ্যন্তরে বিক্রি করা হলে, সেগুলির ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে। ফলে এইড ধরণের সুবিধা শুধুমাত্র রফতানির জন্যই লাভজনক।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কা সফরের আগে টিম ইন্ডিয়ায় জোড়া ধাক্কা! ছিটকে গেলেন বুমরাহ, ফিট নন আরও এক তারকা খেলোয়াড়
এই প্রসঙ্গে গ্রান্ট থর্নটন ইন্ডিয়ার অংশীদার রিয়াজ থিংনা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত কর পরিবর্তনের ফলে বিদেশি কোম্পানিগুলি ভারতে তাদের কন্ট্রাক্ট ম্যানুফ্যাকচারারদের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ সংরক্ষণ এবং স্থানান্তর করতে পারবে। এটি বাণিজ্য-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্ট সাপ্লাই চেনের ব্যাঘাত কমাতে সাহায্য করবে এবং কর বিষয়ে আরও বেশি স্বচ্ছতা আনবে।
















