বাংলাহান্ট ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশে প্রকাশিত একটি সেলফি ভিডিও আচমকাই ফেসবুক থেকে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পরে মেটা (Meta) এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেও বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর কমিটির চেয়ারম্যান নিশীকান্ত দুবে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শুধুমাত্র ক্ষমা চাইলেই দায় এড়ানো যাবে না। তাঁর মতে, কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল, তার পূর্ণ জবাবদিহি করতে হবে এবং প্রয়োজনে সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপও বিবেচনা করা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও গায়েব হওয়ার প্রসঙ্গে মেটাকে (Meta) কড়া বার্তা কেন্দ্রের:
সোমবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে গুগল, মেটা (Meta) এবং ইউটিউবের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন। মূলত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শিশু যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত আপত্তিকর কনটেন্ট এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হলেও, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সেখানে গুরুত্ব পায়। বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সাংসদ মেটার প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চান, কোন প্রক্রিয়ায় ভিডিওটি সরানো হয়েছিল এবং এই সিদ্ধান্তের জন্য শেষ পর্যন্ত দায়ী কে। বিশেষ করে যখন অন্য বহু আপত্তিকর কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে রয়ে যায়, তখন প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার কারণ কী, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।
আরও পড়ুন:ক্রমশ বাড়ছে চাপ! কেন ঝুঁকির সম্মুখীন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের চাকরি?
সরকারি সূত্রের দাবি, বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদ বৈঠকে সরাসরি মেটা কর্তৃপক্ষকে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিওটি কেন সরানো হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায়ভার কার উপর বর্তায়। মেটার প্রতিনিধিরা এ নিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে শাসকদলের সদস্যরা জানান, বিষয়টি শুধু অনুশোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তাঁদের বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং দায় নির্ধারণ জরুরি। নিশীকান্ত দুবেও একই সুরে বলেন, প্রয়োজনে মেটার শীর্ষ নেতৃত্ব, এমনকি সংস্থার প্রধান মার্ক জুকারবার্গেরও এই বিষয়ে জবাবদিহি করা উচিত।
এই বিতর্কের পটভূমিতেও রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি। নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে গত এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলছিল। সেই আন্দোলনের প্রভাব দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে। এই আবহেই গত ২৩ জুলাই গভীর রাতে প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মূলত তরুণ প্রজন্ম ও পড়ুয়াদের উদ্দেশে তৈরি ওই ভিডিওটি প্রকাশের পর দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আরও পড়ুন: রাজ্যে ১০০ কোটির রক্ত দুর্নীতি! তদন্তে কালীঘাটের ‘প্রভাবশালী’র নাম
ভিডিওটি হঠাৎ ফেসবুক থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার পরই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। পরে মেটা (Meta) ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করলেও সংসদীয় কমিটির সদস্যদের একাংশের মতে, শুধু ক্ষমা চাওয়া যথেষ্ট নয়। কীভাবে এমন ভুল হল, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে তার নিশ্চয়তা কী এবং কনটেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রে কী নীতি অনুসরণ করা হয়, এসব বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি ভিডিও সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির জবাবদিহি, কনটেন্ট পরিচালনার স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

















