বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোমবার রাত থেকেই হঠাৎ বিপাকে পড়েন হাজার হাজার হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ব্যবহারকারী। কোনও পূর্বাভাস ছাড়াই বহু অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়, যার ফলে মেসেজ পাঠানো, কল করা বা অ্যাপের অন্যান্য পরিষেবা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছিল না। ভারতীয় সময় রাত প্রায় ৮টা নাগাদ বহু ব্যবহারকারীর ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসে, যেখানে জানানো হয় যে তাঁদের অ্যাকাউন্ট বর্তমানে পর্যালোচনার (Under Review) আওতায় রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের কার্যকলাপ এবং ডিভাইস সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে, যাতে তা হোয়াটসঅ্যাপের পরিষেবার শর্তাবলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিশ্চিত করা যায়। পাশাপাশি জানানো হয়, সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই পর্যালোচনার ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
আন্ডার রিভিউর পর আচমকাই বন্ধ বহু হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) অ্যাকাউন্ট, ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা
এই নোটিফিকেশনের সঙ্গে একটি ‘Learn about account issue’ অপশনও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে ক্লিক করলে ব্যবহারকারীরা দায়িত্বশীলভাবে হোয়াটসঅ্যাপ (WhatsApp) ব্যবহারের নির্দেশিকা, চুরি যাওয়া ফোন বা অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত তথ্য এবং নিরাপত্তা বিষয়ক সহায়তা দেখতে পাচ্ছিলেন। কিন্তু যাঁদের অ্যাকাউন্ট রিভিউয়ের আওতায় গিয়েছিল, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। অ্যাপের প্রায় সব পরিষেবাই সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ব্যক্তিগত ও পেশাগত কাজে যাঁরা প্রতিদিন হোয়াটসঅ্যাপের উপর নির্ভরশীল, তাঁদের অনেকেই এই অচলাবস্থার কারণে সমস্যায় পড়েন। অনেক ব্যবহারকারী জানান, তাঁরা কোনও নিয়ম ভঙ্গ না করলেও হঠাৎ করে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারছিলেন না।
আরও পড়ুন: ক্ষমা যথেষ্ট নয়! প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও গায়েব হওয়ার প্রসঙ্গে মেটাকে কড়া বার্তা কেন্দ্রের
ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসন্তোষের ঝড় ওঠে। একাধিক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেন, কোনও স্পষ্ট কারণ না জানিয়েই তাঁদের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, তিনি ইতিমধ্যেই পুনর্বিবেচনার আবেদন জমা দিয়েছেন, কিন্তু সেখানে শুধু জানানো হয়েছে যে বিষয়টি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খতিয়ে দেখা হবে। জরুরি যোগাযোগের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করলেও সেই সময় তিনি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলেও দাবি করেন। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেন। ফলে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, এটি কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি নিরাপত্তাজনিত কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নেওয়া কোনও পদক্ষেপ।
এই বিতর্কের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংস্থা নিয়মিতভাবে এমন অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, যেগুলি পরিষেবার অপব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হয়। প্রয়োজনে সেই সব অ্যাকাউন্ট সাময়িক বা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধও করা হয়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, কখনও কখনও ভুলবশতও কোনও অ্যাকাউন্ট রিভিউয়ের আওতায় চলে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি দ্রুত যাচাই করে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের পরিষেবা ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সংস্থার দাবি, নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ব্যবহারকারীদের স্বার্থ রক্ষা, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ডিজিটাল প্রতারণা, স্প্যাম এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম আরও কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তবে সেই প্রক্রিয়ায় যদি প্রকৃত ব্যবহারকারীরাও সমস্যায় পড়েন, তাহলে তাদের দ্রুত সহায়তা এবং পরিষ্কার ব্যাখ্যা দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সোমবারের এই ঘটনায় ঠিক কতগুলি অ্যাকাউন্ট প্রভাবিত হয়েছে, সে বিষয়ে সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও সংখ্যা জানায়নি। তবে বহু ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট, এই সাময়িক বিভ্রাট ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এখন ব্যবহারকারীদের নজর থাকবে, রিভিউ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর কত দ্রুত স্বাভাবিক পরিষেবা ফিরিয়ে আনে হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে সংস্থা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে (WhatsApp)।

















