হাসিনার ভাষণ আটকাতে বাংলাদেশের আবেদন! ‘বেসরকারি অনুষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট ভারতের

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের (Bangladesh)রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী  সভানেত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) । এরপর থেকেই তিনি ভারতে (India) অবস্থান করছেন এবং দীর্ঘ সময় জনসমক্ষে আসেননি। তবে ঠিক দু’বছর পর, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট, প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস’ ক্লাবের উদ্যোগে নয়াদিল্লির মথুরা রোডে অবস্থিত স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই বক্তব্যে তিনি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরতে পারেন।

হাসিনার (Sheikh Hasina) ভাষণ অনুষ্ঠান নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত

হাসিনার এই ঘোষিত ভাষণকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক উত্তাপ তীব্র হয়েছে। বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, দেশের কোনও টেলিভিশন বা সংবাদমাধ্যম যেন তাঁর বক্তব্য সম্প্রচার না করে। শুধু তাই নয়, ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কাছেও অনুরোধ জানিয়েছে, ভারতের মাটি ব্যবহার করে শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) বা আওয়ামী লিগের অন্য কোনও নেতাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ার জন্য। বাংলাদেশের দাবি, এ ধরনের কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ভারত সরকারের অবস্থান সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে ঢাকা।

আরও পড়ুন:PoK-তে নির্বাচনের নামে প্রহসন, লঙ্ঘিত হয়েছে মানবাধিকার, তদন্তের দাবি জানাল ভারত

এই আবেদনের পর ভারতের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের উদ্যোগে আয়োজিত হচ্ছে এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। তিনি আরও বলেন, ওই অনুষ্ঠানে কেউ ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করলে তা ভারত সরকারের সরকারি অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে না। অর্থাৎ, অনুষ্ঠানটি আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকার কোনও ভূমিকা নিচ্ছে না এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যকেও সরকার সমর্থন বা অনুমোদন করছে না। এই মন্তব্যের পর স্পষ্ট হয়েছে যে ভারত সরকার বিষয়টিকে সরকারি কূটনৈতিক কর্মসূচির বদলে একটি স্বাধীন বেসরকারি আয়োজন হিসেবেই দেখছে।

 

উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, গণহত্যার মামলায় দণ্ডিত বলে দাবি করা একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ভারত থেকে ভার্চুয়াল রাজনৈতিক ভাষণ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে দিল্লির অবস্থান পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে ভারতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও বেসরকারি প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বক্তব্যকে সরকার নিজের অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করে না। ফলে শেখ হাসিনার নির্ধারিত ভাষণ ঘিরে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক জল্পনার মধ্যেই ভারতের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

India clarifies its stance on the speech event featuring Sheikh Hasina.

আরও পড়ুন: বড় সিদ্ধান্ত RBI-র, রেপো রেটের প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা গভর্নরের! EMI-র ওপর পড়বে কী প্রভাব?

বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) এই প্রথম প্রকাশ্য ভাষণ শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ প্রায় দু’বছর নীরব থাকার পর তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য রোডম্যাপ উঠে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে ভাষণ সম্প্রচার ঘিরে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা, ভারতের নিরপেক্ষ অবস্থান এবং দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন— সব মিলিয়ে ৫ আগস্টের এই অনুষ্ঠান এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।