PoK-তে নির্বাচনের নামে প্রহসন, লঙ্ঘিত হয়েছে মানবাধিকার, তদন্তের দাবি জানাল ভারত

Published on:

Published on:

Diplomatic tensions between India-Pak have intensified once again over the elections in Pakistan-occupied Kashmir.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan-occupied Kashmir) স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে ফের ভারত-পাকিস্তান (Pakistan) কূটনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। সেখানে ভোটের নামে শুধুই প্রহসন চলছে বলে মঙ্গলবার কড়া ভাষায় অভিযোগ তুলেছে ভারত (India)। নয়াদিল্লির দাবি, পাকিস্তান সরকার গণতন্ত্রের মুখোশ পরে প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর দমন-পীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং প্রশাসনিক নির্যাতন চলছে। নির্বাচন সেই বাস্তবতাকে ঢেকে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া আর কিছুই নয়। কেন্দ্রের দাবি, গত জুন মাস থেকে পাকিস্তানি বাহিনী ও প্রশাসনের দমন-পীড়নের জেরে অন্তত ৯০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলেও ভারতের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

PoK (Pakistan-occupied Kashmir)-তে নির্বাচনকে ঘিরে ফের ভারত-পাকিস্তান কূটনৈতিক সংঘাত তীব্র:

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (Pakistan-occupied Kashmir ) যে স্থানীয় নির্বাচন হচ্ছে, তা কোনওভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতিফলন নয়। তাঁর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী জনরোষ দমাতে গুলি চালানো, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকআউট এবং প্রশাসনিক দমন-পীড়নের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। মানুষের ক্ষোভ ও বঞ্চনার জবাব না দিয়ে একটি অন্তঃসারশূন্য নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে যে বক্তব্য তুলে ধরে, বাস্তবে তার সঙ্গে পরিস্থিতির কোনও মিল নেই। তাই গোটা বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: বিদেশে চিকিৎসার আর্জিতে জোর ধাক্কা! অভিষেকের আবেদন খারিজ করল হাই কোর্টে

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে অশান্তির আবহ অবশ্য নতুন নয়। গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সেখানে অর্থনৈতিক সঙ্কট, মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক বঞ্চনা এবং নাগরিক অধিকারের দাবিতে আন্দোলন চলছে। স্থানীয় মানুষের অভিযোগ, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও মৌলিক পরিষেবা থেকে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বঞ্চিত। সেই ক্ষোভের জেরে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, এই আন্দোলন দমাতে পাকিস্তান প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যার ফলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমন এক পরিবেশে নির্বাচন শুরু হওয়ায় ভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এই আবহে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার উপর পাকিস্তান সরকারের নিষেধাজ্ঞা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং প্রশাসনের দমন-পীড়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরই সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, আল জাজিরা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন করেছে। যদিও সমালোচকদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আরও বেশি আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মানবাধিকার ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীদের জন্য বড় খবর! পেনশন নিয়ে বিরাট ঘোষণা সরকারের

Diplomatic tensions between India-Pak have intensified once again over the elections in Pakistan-occupied Kashmir.

ভারত আবারও তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর, যার মধ্যে পাক অধিকৃত কাশ্মীরও (Pakistan-occupied Kashmir ) রয়েছে, ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেই কারণেই ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভারত কোনও বৈধতা দেয় না। অন্যদিকে পাকিস্তান এই নির্বাচনকে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ বলেই দাবি করছে। দুই দেশের এই বিপরীত অবস্থানের মধ্যেই পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা, এই তিনটি বিষয়কে ঘিরেই আগামী দিনে কূটনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।