বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বিদেশে গিয়ে চোখের চিকিৎসা করানোর আবেদন আপাতত স্থগিত। কলকাতা হাই কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হবে না। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে অনীহা প্রকাশ করায় শেষ পর্যন্ত তাঁর আবেদনই খারিজ করে দেয় আদালত।
অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিদেশ যাত্রা প্রসঙ্গে হাইকোর্ট
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে অভিষেকের বিদেশ যাত্রা মামলার শুনানি হয়। আদালত জানায়, পরদিন এসএসকেএম হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের প্রধানের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি মেডিক্যাল বোর্ড অভিষেকের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে জানাবে, বিদেশে চিকিৎসা করানো আদৌ প্রয়োজন কি না। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। তবে অভিষেকের আইনজীবী জানিয়ে দেন, তাঁর মক্কেল এসএসকেএম হাসপাতালে যাবেন না। এরপর আর আবেদনটি নিয়ে এগোয়নি হাইকোর্ট এবং মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত,চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেছিলেন হাইকোর্টে। হাইকোর্টে শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বলেছিলেন, রাজ্যের সরকারি সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করবে। তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে অভিষেককে বিদেশ যাওয়ার ছাড় দেওয়া হবে।
হাই কোর্টের এই রায়ের পরই অভিষেক সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে শীর্ষ আদালতও শেষ পর্যন্ত বিষয়টি ফের হাই কোর্টের হাতেই ছেড়ে দেয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, সাত দিনের মধ্যে আবেদনটির নিষ্পত্তি করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার মামলার শুনানি হয়।
অভিষেকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী রেবেকা ম্যামেন জন আদালতের নজরে আনেন পূর্বের একটি ঘটনার কথা। তিনি বলেন, “এর আগেও ইডির একটি মামলায় তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও উঠেছিল এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের কোনও আপত্তি ছিল না।”

আরও পড়ুন : রিপাবলিক বাংলা ছাড়ছেন ময়ূখ রঞ্জন ঘোষ? এক পোস্টে জল্পনা তুঙ্গে
রাজ্যের পক্ষ থেকে সেই যুক্তির বিরোধিতা করেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, “সেই মামলায় অভিষেক অভিযুক্ত ছিলেন না।”পাশাপাশি রাজ্যের দাবি, বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলে তদন্তের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এই মুহূর্তে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি পাওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। ভবিষ্যতে তিনি নতুন করে আবেদন করবেন কি না বা অন্য কোনও আইনি পদক্ষেপ নেবেন কি না, সেটাই এখন দেখার।

















