বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্য সরকারের পালা বদলের পর মিড ডে মিল (Mid Day Meal) নিয়ে একের পর এক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। কখনও মিড ডে মিলের খাবার মেনু নিয়ে আবার কখনও মিড ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া নিয়ে। সব বিতর্কের অবসানে এই প্রকল্পকে রাজ্যের সরকারি ও সরকার-পোষিত স্কুলগুলিতে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৮ দফা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) জারি করেছে স্কুল শিক্ষা দফতর।
মিড-ডে মিল প্রকল্পে (Mid Day Meal) নয়া নির্দেশ
রাজ্য সরকারের এই নয়া নির্দেশিকায় প্রথমেই খাবার বিতরণের পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে খাবার সরবরাহ করা হবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগাম লিখিতভাবে প্রকাশ করতে হবে। এই দায়িত্ব পালন করবেন কলকাতা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসার, যাতে প্রতিটি স্কুল আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারে। খাবার পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সকাল শিফটের স্কুলে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এবং ডে শিফটের স্কুলে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে খাবার দেওয়া হবে। এই সময়সীমা মেনে প্রতিটি স্কুলে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকবে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের। স্কুলের শিফট পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। কোনও স্কুলের শিফট একবার চিহ্নিত করা সম্পূর্ণ হলে, স্কুল কর্তৃপক্ষ সরাসরি সময় পরিবর্তনের দাবি করতে পারবে না। প্রয়োজন প্রশাসনিক অনুমোদনের দ্বারা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে।
SOP-তে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, খাবার সরবরাহী যানবাহনকে নির্দিষ্ট রুটেই চলাচল করতে হবে, যাতে চালক সংশ্লিষ্ট এলাকার সঙ্গে পরিচিত থাকেন এবং সরবরাহে অযথা বিলম্ব না হয়। একইসঙ্গে প্রতিটি ফুড ট্রাকে GPS ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক। খাবারের সঙ্গে চালান বা রসিদ বহন করতে হবে এবং স্কুলে পৌঁছনোর পরে টিচার-ইন-চার্জ সেই নথিতে স্বাক্ষর করবেন।
কুক-কাম-হেলপার নিয়োগের ক্ষেত্রেও কড়া নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ছাত্রসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত অনুপাতে কর্মী রাখতে হবে। এমনকি আগামী ৫ অগাস্টের মধ্যে কর্মরত কুক-কাম-হেলপার-এর সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর তথ্য এবং নিয়োগ সংক্রান্ত নথি জমা দিয়ে যাচাই করাতে হবে নয়তো বাতিল হতে পারে।

আরও পড়ুন : প্রশ্নের মুখে ৪৫ হাজার কাস্ট সার্টিফিকেট, বড় পদক্ষেপ রাজ্যের
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী সপ্তাহে দু’দিন ডিম দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য কলকাতার নোডাল অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার পর মিড-ডে মিল প্রকল্পে খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে কর্মী ব্যবস্থাপনা, পরিবহণ এবং প্রশাসনিক তদারকির প্রতিটি ধাপে আরও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে শিক্ষা দফতর।

















