বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার বাড়ি প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এবার কড়া অবস্থান জানাল রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন, প্রকল্পের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সরকারি অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। একইসঙ্গে প্রকৃত দরিদ্র উপভোক্তারা যাতে প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত মন্ত্রী (Dilip Ghosh)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক তথ্য প্রকাশ করেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের সরকারের সময় প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষের নাম আবাস প্রকল্পের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। প্রায় ১২ লক্ষ উপভোক্তা পুরো অর্থ পেয়েছেন এবং ১ লক্ষ ২০ হাজার বাড়ির নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে।
অন্যদিকে, তালিকায় থাকা আরও ১৮ লক্ষ পরিবারের ক্ষেত্রে প্রকল্পের পরবর্তী অর্থপ্রদান দীর্ঘদিন আটকে ছিল। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁদের প্রথম দফায় ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও তারপর প্রায় আট মাস আর কোনও অর্থ মেলেনি। ফলে অনেক বাড়ির নির্মাণ মাঝপথেই থেমে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সেই পরিবারগুলির বাকি প্রাপ্য অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষ ২০ হাজার উপভোক্তার জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে প্রায় ৮ লক্ষ বাড়ির ক্ষেত্রে এখনও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। সংশ্লিষ্ট বাড়িগুলির পর্যালোচনা সংক্রান্ত রিপোর্ট সরকারের হাতে পৌঁছনোর পর সেই উপভোক্তাদেরও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি আগের তালিকায় থাকা অযোগ্য উপভোক্তাদের নিয়েও বড় পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা স্পষ্ট করে ফের কড়া বার্তা দিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বেআইনিভাবে টাকা নিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আরও তদন্ত চলছে। ১২ হাজার লোকের মধ্যে আমরা সেই টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা শুরু করেছি। এক হাজার লোকের কাছ থেকে টাকা রিকভারি শুরু হয়ে গেছে। বাকিদেরও নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকেও আমরা…এই যে অবৈধভাবে টাকা নিয়েছেন, সেই টাকা ফেরত চাইছি।”
ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজার ব্যক্তির ক্ষেত্রে টাকা ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদের কাছেও নোটিস পাঠানো হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী। SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে সাংবাদিক বৈঠকে। দিলীপ ঘোষের দাবি, SIR-এ বাদ পড়া প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৫৭ হাজার জন এমন রয়েছেন, যাঁরা আবাস যোজনার সুবিধা পেয়েছেন।

আরও পড়ুন :‘বিচারের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা?’ সিবিআইকে প্রশ্ন হাই কোর্টের, কোন মামলায়?
উল্লেখ্য, তাঁদের নামও বাংলার বাড়ি প্রকল্পের বর্তমান তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার আওতায় পড়েন না। তবে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সঙ্গে প্রকৃত উপভোক্তাদের স্বার্থও সুরক্ষিত রাখার বার্তা দিয়েছে সরকার।













