CNG-PNG-তেও মিশবে বায়োগ্যাস! ১০ বছরের গোবরধন প্রকল্পে ২৩,৭৩১ কোটি খরচ করবে কেন্দ্র

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২৩,৭৩১ কোটি টাকার বায়োগ্যাস প্রকল্প (Biogas Project) বা ‘গোবরধন’ (GOBARdhan) প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ বছর ধরে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি বর্জ্য, গোবর, জৈব বর্জ্য এবং অন্যান্য বায়োমাস থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে তা ধাপে ধাপে সিএনজি (CNG) ও পিএনজি (PNG)-র সঙ্গে মেশানো হবে। সরকারের লক্ষ্য, বর্জ্যকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে তা থেকে জ্বালানি ও জৈব সার তৈরি করে দেশের পরিচ্ছন্ন শক্তির পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা।

জ্বালানি ব্যবস্থা উন্নত করতে বায়োগ্যাস প্রকল্পে (Biogas Project) ২৩,৭৩১ কোটি টাকা খরচের অনুমোদন কেন্দ্রের

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, গোবরধন প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল দেশে কমপ্রেসড বায়োগ্যাস বা CBG-এর উৎপাদন দশ গুণেরও বেশি বাড়ানো। এর মাধ্যমে আমদানিনির্ভর জ্বালানির উপর দেশের নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা আরও মজবুত করার চেষ্টা করা হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, নগর গ্যাস বিতরণকারী সংস্থাগুলি বিভিন্ন প্রকল্পে উৎপাদিত বায়োগ্যাস কিনবে এবং পরে তা নির্দিষ্ট হারে সিএনজি ও পিএনজির সঙ্গে মিশিয়ে সরবরাহ করা হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ৩ শতাংশ, ২০২৭-২৮ অর্থবর্ষে ৪ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত বায়োগ্যাস (Biogas Project) মেশানোর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গাফিলতি! Meta-কে ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানার নির্দেশ মার্কিন আদালতের

কেন্দ্রের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও জৈব বর্জ্যের কার্যকর ব্যবহার গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং জৈব সার উৎপাদনের ফলে কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির জোগান বাড়ার পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান এবং দেশের জ্বালানি স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

তবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নিয়ে কেন্দ্রের এই উদ্যোগের মধ্যেই পেট্রোলে ইথানল মেশানো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই কেন্দ্র ই-২০ অর্থাৎ ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের কর্মসূচি চালু করেছে। তাঁর দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষি অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য জৈব বর্জ্য থেকে ইথানল উৎপাদনের উপর জোর দেওয়া হলেও ভারতে এখনও আখ, ধান ও ভুট্টার মতো ফসলের উপর নির্ভরতা বেশি। তাঁর মতে, আখ ও ধান চাষে বিপুল পরিমাণ সেচের জল প্রয়োজন হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে জলসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তার উপর চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ইথানল উৎপাদনের উৎস ও তার পরিবেশগত প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

Central govt approves 23,731 crore expenditure for biogas projects

আরও পড়ুন: ‘বিচারের জন্য আর কতদিন অপেক্ষা?’ সিবিআইকে প্রশ্ন হাই কোর্টের, কোন মামলায়?

এরই মধ্যে বিমান জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর কোনও পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল অভিযোগ করেছিলেন, এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা ATF-এ ইথানল মেশানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্র। যদিও সেই দাবি সরাসরি খারিজ করেছেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী রাম মোহন নাইডু। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানান, বিমান জ্বালানিতে ইথানল মেশানোর কোনও প্রস্তাব বা পরিকল্পনা সরকারের নেই এবং এ সংক্রান্ত খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর। ফলে একদিকে গোবরধন প্রকল্পের মাধ্যমে বায়োগ্যাসকে জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ চলছে, অন্যদিকে ইথানল মিশ্রণ নিয়ে জল, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিতর্কও সামনে আসছে। আগামী দিনে এই দুই ক্ষেত্রেই সরকারের নীতি ও বাস্তবায়ন দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যের উপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই নজরে থাকবে (Biogas Project)।