সাহিলের মৃত্যুতে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন IIT বম্বের! ছুটিতে পাঠানো হল অভিযুক্ত অধ্যাপককে

Published on:

Published on:

IIT Bombay has formed a 10-member committee following Sahil's death.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের (Sahil Wakode) মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। এবার বড় পদক্ষেপ নিল আইআইটি বম্বে কর্তৃপক্ষ। মামলায় নাম থাকা অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে (Suryanarayan Dulla) আপাতত ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি গোটা ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গঠন করা হয়েছে ১০ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি। আইআইটি পালাক্কাডের বোর্ড অফ গভর্নরসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রমেশ ভেঙ্কটেশ্বরনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের তলব অনুযায়ী বুধবারই অধ্যাপক দুল্লার জিজ্ঞাসাবাদ হওয়ার কথা।

সাহিলের মৃত্যুতে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করল IIT বোম্বে (IIT Bombay):

২২ বছরের সাহিল ছিলেন আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের BTech পড়ুয়া। ১৮ সেপ্টেম্বর একটি মিড-সেমেস্টার পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হস্টেলের ঘর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় সাহিলের কাছে মোবাইল ফোন থাকার অভিযোগ ওঠে এবং প্রশ্নপত্রের ছবি তুলে AI প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক দুল্লা। এরপর সাহিলকে পরীক্ষা হল থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। পরে এই ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে শিক্ষক, ফ্যাকাল্টি অ্যাডভাইজ়ার এবং বিভাগীয় প্রধানের কাউন্সেলিং হয়েছিল বলে জানিয়েছিল আইআইটি। তবে সাহিলের মৃত্যুর পর সেই ঘটনার পরম্পরা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।

আরও পড়ুন: জামাই-শ্যালক জুটির দুর্ধর্ষ স্টার্টআপ! ২ বছরেই ১২ কোটির ব্যবসা, অবাক করবে পীযূষ-প্রশান্তের কাহিনি

ঘটনার পর সাহিলের পরিবার গুরুতর অভিযোগ তোলে। পরিবারের দাবি, ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত বৈষম্য ও মানসিক হেনস্থার মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁদের ছেলেকে। সাহিলের বাবা রবীন্দ্র ওয়াকোড়ে অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছেলে অধ্যাপক দুল্লা-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে জাতিগত কটূক্তি ও হেনস্থার কথা জানিয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ আত্মহত্যায় প্ররোচনা এবং SC/ST (Prevention of Atrocities) Act-এর ধারায় মামলা করেছে। তবে পুলিশি তদন্তে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত হয়নি। মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ ইতিমধ্যেই সাহিলের বাবা-মায়ের বয়ান নিয়েছে এবং পরীক্ষা হল, ক্যাম্পাস ও হস্টেলের CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ১৮ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা হল থেকে বেরোনোর পর সাহিলের গতিবিধিও পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

এদিকে এই ঘটনায় আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসেও পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সাহিলের মৃত্যুর পর একাংশের পড়ুয়া স্বাধীন তদন্ত, শৃঙ্খলাবিধির সংস্কার, ছাত্রদের আরও প্রতিনিধিত্ব, কাউন্সেলিং ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা বাড়ানো এবং শিক্ষকদের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধির মতো একাধিক দাবি জানিয়েছে। ১৮ দফা দাবির একটি চার্টারও কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার অধ্যাপক দুল্লাকে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাফেয়ার্সের ডিনের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে পাল্টা সরব হন ফ্যাকাল্টির একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, পরীক্ষার ইনভিজিলেটর হিসেবে দুল্লা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তাঁকে ঘটনার জন্য দায়ী করা ঠিক নয়।

IIT Bombay has formed a 10-member committee following Sahil's death
বাঁদিকে মৃত পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোরে এবং ডানদিকে অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা

আরও পড়ুন: ৩ দিনের ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের আগে রবিবার খোলা রাখতে হবে ব্যাঙ্ক! বিবৃতি জারি করে কী জানাল কেন্দ্র?

সব মিলিয়ে সাহিলের মৃত্যুর ঘটনায় এখন দুটি তদন্ত সমান্তরালভাবে এগোচ্ছে—একদিকে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের ফৌজদারি তদন্ত, অন্যদিকে আইআইটি বম্বের (IIT Bombay) উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত। পরীক্ষার হলে ঠিক কী ঘটেছিল, অধ্যাপক দুল্লা ও সাহিলের মধ্যে কী কথা হয়েছিল এবং তার পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, তারই উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। CCTV ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে পুরো ঘটনাক্রম সামনে আনার চেষ্টা চলছে। আইআইটির ১০ সদস্যের কমিটি এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার কথা। সেই রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্ত—দুইয়ের ফলেই স্পষ্ট হবে, ১৮ সেপ্টেম্বরের সেই পরীক্ষার পর সাহিলের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে আগের ঘটনাগুলির কোনও যোগ ছিল কি না।