বাংলা হান্ট ডেস্ক: মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী তেল সঙ্কট থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতও (India) তার কৌশল পরিবর্তন করেছে। মূলত, সমুদ্রপথে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির আবহে ভারত তার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করেছে। সরকার ঘোষণা করেছে যে, ভারত LNG (Liquified Natural Gas) ক্রয়কারী দেশের সংখ্যা ৬ থেকে বাড়িয়ে ১৫ করেছে। এদিকে, অপরিশোধিত তেল (Crude Oil) এখন ২৭ টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪১টি দেশ থেকে কেনা হয়। সামগ্রিকভাবে, ভারত শুধু বিভিন্ন দেশ থেকে তেল কেনার নেটওয়ার্কই প্রসারিত করছে না, বরং ভবিষ্যতের সঙ্কট মোকাবিলার জন্য কৌশলগত তেল ভাণ্ডারের ক্ষমতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা করছে।
আর জ্বালানি সঙ্কটের সম্মুখীন হবে না ভারত (India)!
জানিয়ে রাখি যে, ইতিমধ্যেই পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী সোমবার রাজ্যসভায় এই ঘোষণা করেন। তিনি জানিয়েছেন যে, জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে উদ্ভূত বিশ্বব্যাপী ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে ভারত তার সোর্সিং কৌশল সংশোধন করেছে। সরকারের মতে, একাধিক দেশ থেকে তেল ও গ্যাস কেনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, ভারত আর কোনও একটি দেশ বা একটিমাত্র সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না। যদি কোনও দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় বা কোনও সমুদ্রপথে সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাহলে ভারত অন্যান্য দেশ থেকে তার চাহিদা মেটাতে পারে।

দেশের সংখ্যা কেন বাড়ানো হল: মূলত, ভারত তার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। তাই, যেকোনও একটি দেশ, অঞ্চল বা সমুদ্রপথে সঙ্কট দেখা দিলে তা ভারতের জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনা এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য পথের সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদি জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ পথ বিঘ্নিত হয়, তাহলে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ আরও ব্যয়বহুল এবং কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এই কারণে ভারত তেল ও গ্যাস ক্রয়ের উৎস প্রসারিত করেছে। সরকারের মতে, এই কৌশল কোনও একক দেশ বা অঞ্চলের ওপর নির্ভরতা কমায় এবং আকস্মিক সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলা করা সহজ করে তোলে।
আরও পড়ুন: সৌরশক্তিতে চলবে গাড়ি! ভারতে এই কোম্পানি নিয়ে এল সোলার কার, রেঞ্জ ২৫০ কিমি, দাম কত?
সরকার বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজার পর্যবেক্ষণ করে: উল্লেখ্য যে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকার বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল ও গ্যাস কোম্পানিসহ অন্যান্য অংশীদারদের সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সরকারের লক্ষ্য হল, যেকোনও বড় বিশ্বব্যাপী সঙ্কট সত্ত্বেও দেশে অপরিশোধিত তেল, LNG ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখা।
আরও পড়ুন: কোন কোন কারণে সবথেকে বেশি ঋণ নিচ্ছেন ভারতীয়রা? পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য জানাল সরকার
ভারতে নতুন তেল ভাণ্ডার তৈরি হচ্ছে: জানিয়ে রাখি যে, ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভস লিমিটেড অন্ধ্রপ্রদেশ এবং কর্ণাটকে ৩ টি কৌশলগত তেল ভাণ্ডার স্থাপন করেছে। এগুলির মোট ধারণক্ষমতা ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল। সরকার ওড়িশার চণ্ডিখোল এবং কর্ণাটকের পাদুরে আরও ২ টি বাণিজ্যিক-কাম-স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডারের অনুমোদনও দিয়েছে। এগুলির মোট ধারণক্ষমতা হবে ৬৫ লক্ষ মেট্রিক টন।













