পূর্ব পরিকল্পিত… হালিশহরের ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

Published on:

Published on:

Abhishek Banerjee explosive comment regarding attempted attack to Mamata Banerjee incident at halisahar
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গতকাল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গাড়ি লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছিল একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনা প্রসঙ্গে আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রথমেই তৃণমূল সুপ্রিমোর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক বললেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রী নন। তিনি তিনবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, সাতবার এমপি হয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করছেন এবং আগেও দুবার রেল মিনিস্টার, একবার স্পোর্টস মিনিস্টার, একবার কোল মিনিস্টার। চারবার মন্ত্রিত্ব চালিয়েছেন। এতদিন ধরে তাঁর কেরিয়ার এবং তিনি রাজনৈতিক জনপ্রতিনিধি। ১৫ বছরের চিফ মিনিস্টার।’

বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকুক এরা চায় না : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

এরপরই গতকালের ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ‘উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে,পূর্ব পরিকল্পিতভাবে যেভাবে বিজেপির গুন্ডারা মানে যাদেরকে ফুটেজে দেখা গিয়েছে তারা তো কেউ পৃথক কোন সাপোর্টার বা কর্মী নন। তাদেরকে এমএলএ-দের সাথে দেখা গেছে, তাদেরকে বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে দেখা গিয়েছে বিজেপির বড় বড় নেতাদের সাথে তাদের ছবি রয়েছে। আমার কাছে ছবি রয়েছে আমি দেখাতে পারি আপনাদেরকে। পুরোটাই স্টেট স্পনসার্ড।’

বিস্ফোরক অভিযোগ করে অভিষেক বললেন, ‘এরা চায়না বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকুক, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা বেঁচে থাকুক, প্রাণে মারতে চায়। গতকালের যে ঘটনা এটা আবার প্রমাণ করছে, আপনারা দেখেছেন আমি যেদিন এয়ারপোর্টে গেছিলাম স্পিকারের সাথে দেখা করতে, সেদিন রাত্রে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার সময় খুব সম্ভবত ১৯শে জুন এয়ারপোর্টে বন্দুক হাতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির এক দুষ্কৃতিকে। এখনও পুলিশ তাকে অ্যারেস্ট করেনি, যার সাথে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি রয়েছে। যিনি বর্তমানে এখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। যিনি বন্দুক হাতে এয়ারপোর্ট গেছিলেন তাকে পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার করেনি তার কারণ তাকে মদত দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।’

আরও পড়ুনঃ আগে যুবসাথী পেলেই মিলবে যুবশক্তির ৩ হাজার টাকা? সরকারি নিয়ম জানুন

তৃণমূলের যুবরাজ অভিষেকের স্পষ্ট দাবী, ‘গতকালের যে ঘটনা ঘটেছে পুরোপুরি স্টেটস স্পনসার্ড, এবং রাজ্য সরকারের সম্পূর্ণ মদত এই ঘটনার পিছনে না থাকলে কারোর সাহস হয় না। গাড়ি থেকে রেকর্ড করা হয়েছে যেভাবে মানে পিছনে এলোপাথাড়ি ইট,পাটকেল, কাদা এসব ছোড়া হয়েছে, এরা চায়না কোনো রাজনৈতিক দল কোন কর্মসূচি করুক আমাদের কোন মিটিং এর পারমিশন দিচ্ছে না। কেন এত ভীতসন্ত্রস্ত তৃণমূলকে নিয়ে? এত ভয় কিসের? ‘

বিজেপির বিটিম বাংলাটাকে শেষ করছে!

অভিষেকের দাবী, ‘বিজেপি আর বিজেপির বিটিম মিলে বাংলাটাকে শেষ করছে। আমার বিশ্বাস তিন মাসে এরা যা দেখিয়েছে, বাংলার মানুষ এদের ক্ষমা করবে না। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সরকার ক্ষমতায় আসার পর, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ওপর বুলডোজার চালিয়েছে। চারিদিকে ভয়, সন্ত্রাস,ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও, জ্বালিয়ে দাও, কাটিয়ে দাও এই রাজনীতি। ভয়ের রাজনীতি। তারা বলেছিল ভয়া আউট, ভরসা ইন।’

সরকারি প্রকল্প প্রসঙ্গেও এদিন তুলোধোনা করে অভিষেক বললেন, ‘আজ বাংলার মানুষ দেখছে তিন মাসের যে সরকার ভরসা আউট, ভয় ইন। মানুষকে দেওয়া যত প্রতিশ্রুতি একটাও পূরণ করেনি। কোন প্রতিশ্রুতি এখনো পর্যন্ত পূরণ হয়নি। বলেছিল যুবশক্তির টাকা দেবো তিন হাজার টাকা করে দিতে পারেনি। আমাদের সরকার দিয়েছিল। বলার সঙ্গে সঙ্গে এক মাসের মধ্যে। গত ৫ বছরে আপনি বাংলার একটা মহিলাকে আপনি দেখাতে পারবেন না যে বলতে পারবে যোগ্য প্রাপক হয়ে লক্ষী ভান্ডারের টাকা পায়নি। আজ তিন মাসের মধ্যে প্রায় এক কোটি মহিলাকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ শীঘ্রই চালু হচ্ছে ওয়েবসাইট! নবান্নে সপ্তম বেতন কমিশনের প্রথম বৈঠকের পর বিরাট আপডেট

এখানেই শেষ নয়, কেন্দ্রীয় নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে অভিষেকের সংযোজন, ‘সরকার দিল্লির তল্পীবাহক হিসেবে কাজ করছে। আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই শুধু একা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একা দোষ দিলে হবে না, এর পিছনের প্রত্যক্ষভাবে মদত দিল্লি নেতাদের রয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী হোক, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোক দিল্লীর নেতাদের ইন্ধন না থাকলে এই ঘটনা ঘটানোর সাহস কারও হবে না।’