বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আরজি করে (RG Kar) চিকিৎসক-পড়ুয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দুই বছর পর আবার নতুন করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হল। তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট।
আরজি কর (RG Kar) কাণ্ডে নতুন FIR
রবিবার ছিল আরজি করের (RG Kar) চিকিৎসক-পড়ুয়ার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির লোকসংস্কৃতি ভবনে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন নির্যাতিতার বাবা-মা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আরজি কর কাণ্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের এখনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। তাই নতুন করে একটি মামলা রুজু করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনারকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই সোমবার নির্যাতিতার বাবা ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে নতুন অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক ধারায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলায় নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে, সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েক জনের নাম রয়েছে।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ দ্রুত দাহ করার বিষয়টি নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়েছে। যে শ্মশানঘাটে দাহকার্য হয়েছিল, সেখানে কয়েক জনের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা দরকার বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিশেষ করে নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা তদন্ত করে দেখার কথা বলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই ঘটনার (RG Kar) তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। সেই কমিটির তত্ত্বাবধানেই নতুন মামলার তদন্ত এগোবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে পুলিশের তিন জন শীর্ষ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সাসপেন্ড করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ সরকারি কর্মীদের বেতন, DA ও পেনশন নিয়ে অষ্টম পে কমিশনে বড় প্রস্তাব
এছাড়াও আরজি করের (RG Kar) চিকিৎসক-পড়ুয়ার দাহকার্যের খরচ পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি বলে যে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই বিষয়টিও তদন্তে দেখা হবে। সিবিআই এবং আদালতের তদন্তের পাশাপাশি এই নতুন মামলার মাধ্যমে ঘটনার বিভিন্ন দিক আবারও খতিয়ে দেখবে পুলিশ।













