বাংলা হান্টডেস্ক: এইবারের স্বাধীনতা দিবসে (Independence Day) দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort) সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা যেতে চলেছে বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ১৫ অগস্টের মূল অনুষ্ঠানে প্রথম বার জাতীয় মঞ্চে পরিবেশিত হবে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)। এত দিন প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর মূলত জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’ পরিবেশনেরই প্রথা ছিল। এইবার সেই সূচিতে বদল এনে পতাকা উত্তোলনের সময় প্রথমে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’, তার পর বাজবে জাতীয় সঙ্গীত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই দেশাত্মবোধক গানটির ১৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে। সেই আবহেই স্বাধীনতা দিবসের সরকারি আয়োজনে গানটির বিশেষ উপস্থিতি থাকছে।
১৫ অগাস্টে লালকেল্লায় প্রথমবার গাওয়া হবে বন্দে মাতরম (Vande Mataram):
‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-এর পরিবেশন নিয়েও নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকারি অনুষ্ঠানে গানটি গাওয়ার জন্য সময়সীমা ও কিছু নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, গানটির ছ’টি স্তবক ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড বা ১৯০ সেকেন্ডের মধ্যে পরিবেশন করতে হবে। সরকারি অনুষ্ঠানের পাশাপাশি স্বাধীনতা দিবসের প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রেও ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবক রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় পতাকার মতো জাতীয় গানের মর্যাদা রক্ষার বিষয়েও কেন্দ্র সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং এ সংক্রান্ত বিধান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: GPay-PhonePe-কে টক্কর দিতে ভারতে এবার Apple Pay! কবে চালু হবে পরিষেবা?
এ বারের লালকেল্লার অনুষ্ঠানের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর মূল ভাবনা—‘যুব শক্তি’। দেশের উন্নয়ন ও ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরতেই এই থিম বেছে নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনের আবহ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ছাত্র ও যুবসমাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। দেশ গঠনে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের সাফল্যকে সামনে আনাই এবারের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
এই ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এইবার লালকেল্লার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে কৃতী পড়ুয়াদের। পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীববিদ্যা এবং গণিতের অলিম্পিয়াডে এ বছর পদকজয়ী ১৯ জন পড়ুয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি দিল্লির বিভিন্ন সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্মের মেধা, পরিশ্রম এবং সাফল্যকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁদের দেশগঠনের কাজে আরও উৎসাহিত করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এই বার্তার রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিকেশ ভারতের আরও এক শত্রু! খাবার খেয়ে মসজিদে ঢুকতেই লস্কর কম্যান্ডারের রহস্যমৃত্যু
অন্যদিকে, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর উপস্থিতি নিয়েও স্পষ্টতা মিলেছে। প্রতিরক্ষাসচিব আর কে সিং জানিয়েছেন, তাঁকেও অনুষ্ঠানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিরোধী দলনেতার পদটি আইন অনুযায়ী ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সমতুল্য হওয়ায় সরকারি প্রোটোকল মেনেই তাঁর বসার ব্যবস্থা করা হবে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের পরেই তাঁর জন্য আসন নির্ধারিত থাকবে। ফলে ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram)-এর নতুন সূচি, ‘যুব শক্তি’-কে কেন্দ্র করে বিশেষ আয়োজন, কৃতী পড়ুয়াদের উপস্থিতি এবং বিরোধী দলনেতাকে আমন্ত্রণ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের লালকেল্লার স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান অন্য বছরের তুলনায় বেশ কিছুটা আলাদা হতে চলেছে।













