বাংলা হান্ট ডেস্ক : শহিদ ক্ষুদিরাম বসুর জীবন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবার আরও বিস্তৃত ভাবে জায়গা পেতে চলেছে রাজ্যের পাঠ্যক্রমে এমনই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সমস্ত স্তরের পড়ুয়াদের জন্য ক্ষুদিরামের জীবনী নিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)
স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরেও ক্ষুদিরামের সংগ্রামী জীবন পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এত দিন স্কুলের পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাসের অংশ হিসেবে ক্ষুদিরাম বসুর উল্লেখ থাকলেও তা ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। মূলত তাঁর জন্ম, মৃত্যুদণ্ড এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে কয়েকটি তথ্য দেওয়া থাকত। প্রাথমিক স্তর, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে আলাদা করে ক্ষুদিরামের জীবনী পড়ানোর ব্যবস্থা ছিল না।
মঙ্গলবার ক্ষুদিরামের আত্মবলিদান দিবসে কেশপুরের মোহবনিতে তাঁর জন্মভিটেতে শ্রদ্ধা জানাতে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই পাঠ্যক্রমে পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, কয়েক লাইনের মধ্যে বিপ্লবীর জীবনকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সিলেবাসে ৪ লাইনে ক্ষুদিরাম বসুকে নিয়ে বলা শেষ করলে হবে না।”
শুধু স্কুলের কয়েকটি শ্রেণিতে নয়, শিক্ষার সব স্তরেই ক্ষুদিরামকে নিয়ে বিস্তারিত পড়ানোর কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু অধিকারী
জানিয়েছেন, “এবার থেকে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ক্ষুদিরাম পড়াতে হবে।” অর্থাৎ নতুন ব্যবস্থায় প্রাথমিক স্তর থেকেই শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায় পর্যন্ত তাঁর জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত পুস্তকে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ দিন মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস যথাযথ গুরুত্ব না পাওয়ার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীতের রাজনৈতিক সরকারের আমলে জেলার বিপ্লবীদের ভূমিকা পাঠ্যক্রমে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়নি বলে তাঁর দাবি। তিনি বলেন, “সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়ানোর ইতিহাস পড়িয়েছে তৃণমূল, মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস পড়ানো হয়নি। বামেদের ৩৪ বছরে স্বাধীনতার ইতিহাস পড়তে দেওয়া হয়নি।”মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এতদিন মেদিনীপুর বঞ্চিত ছিল। ৪৯ বছর ধরে মেদিনীপুরকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশপ্রেম-রাষ্ট্রবাদ ছড়িয়ে দিতে চাই। মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র হিসাবে কিছু করতে চাই।”

আরও পড়ুন : এখনও অবধি কত আবেদনের নিষ্পত্তি? SIR মামলায় কমিশনকে বিরাট নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট
পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি ক্ষুদিরামের জন্মভিটে মোহবনির উন্নয়ন পরিষদের জন্য ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক জন্মভিটেটির সংস্কারের কাজও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি ক্ষুদিরামের জন্মস্থানকেও নতুন করে সংরক্ষণ ও উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ক্ষুদিরাম বসুর ইতিহাস প্রাথমিক শিক্ষা থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পড়ার সুযোগ তৈরি হবে।













