বাংলাহান্ট ডেস্ক: নোটের চেহারায় বড় বদলের পথে ভারত। এতদিনের পরিচিত কাগজের ১০ ও ২০ টাকার নোটের পাশাপাশি এবার বাজারে আসতে চলেছে পলিমার (Polymar Banknote) বা প্লাস্টিকের নোট। আপাতত পরীক্ষামূলক ভাবে এই নতুন নোট চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সংসদে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ টাকা এবং ২০ টাকা মূল্যের ১০০ কোটি করে পলিমার নোট বাজারে ছাড়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি সংখ্যায় এই ধরনের নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ভারতের বাজারে আসছে ১০ ও ২০ টাকার প্লাস্টিক নোট (Polymar Banknote)
পলিমার নোট (Polymar Banknote) নিয়ে অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই প্রস্তুতি চালাচ্ছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। সম্প্রতি এ বিষয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বোর্ডে। সেই আলোচনার পরই সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। তবে নতুন নোট এলেও পুরনো কাগজের নোট একেবারে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ, আপাতত একই সঙ্গে বাজারে চলবে কাগজের নোট এবং নতুন পলিমার নোট। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে এই পরিবর্তন ধীরে ধীরে আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
নতুন ধরনের নোট আনার অন্যতম প্রধান কারণ এর স্থায়িত্ব। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় পলিমার নোট প্রায় চার গুণ বেশি টেকসই হতে পারে। জল, ঘাম কিংবা প্রতিদিনের ব্যবহারে দ্রুত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও তুলনামূলক ভাবে কম। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে বহু বছর ধরে এই ধরনের নোট ব্যবহার হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পলিমার নোট ব্যবহারের নজির রয়েছে। ফলে ভারতের মতো দেশে, যেখানে ১০ ও ২০ টাকার নোট দ্রুত হাতবদল হয় এবং বেশি ব্যবহারের কারণে সহজেই মলিন বা ছেঁড়া হয়ে যায়, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে বলে মনে করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।
শুধু টেকসই হওয়াই নয়, দীর্ঘমেয়াদে নোট ছাপার খরচ কমানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পলিমার নোট বিশেষ ধরনের কৃত্রিম উপাদান দিয়ে তৈরি হয় এবং এর জন্য শক্তিশালী অথচ নমনীয় প্লাস্টিক ফিল্ম ব্যবহার করা হয়। ফলে নোট দ্রুত নষ্ট না হওয়ায় বারবার নতুন নোট ছাপানোর প্রয়োজন কমতে পারে। তবে এই মুহূর্তে নতুন নোট তৈরির প্রকৃত খরচ কত হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গোটা প্রক্রিয়াটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আরবিআই ইতিমধ্যেই নোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ পলিমারের টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: ১৫ অগাস্টে লালকেল্লায় নতুন ইতিহাস! প্রথমবার গাওয়া হবে বন্দে মাতরম, থিমেও থাকছে বড় চমক
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট দিয়েই পরীক্ষামূলক ভাবে এই উদ্যোগ শুরু হবে। কারণ দৈনন্দিন বাজার, পরিবহণ থেকে শুরু করে ছোটখাটো কেনাকাটায় এই দুই মূল্যের নোটের ব্যবহার তুলনামূলক বেশি। নতুন নোটের স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা এবং ব্যবহারিক সুবিধা খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আরবিআই গভর্নর জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই পলিমার নোট (Polymar Banknote) বাজারে আনার লক্ষ্য রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে সফল হলে ভারতের মুদ্রাব্যবস্থায় ধীরে ধীরে কাগজের পাশাপাশি পলিমার নোটের ব্যবহার আরও বাড়তে পারে।













