বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বাঁকুড়ায় এক প্রশাসনিক বৈঠকে তিনি জানান, চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমাঞ্চলের ৭৬টি ব্লকের উন্নয়নের জন্য ১৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুধু রাস্তা বা পরিকাঠামো নয়, স্কুল, আইসিডিএস কেন্দ্র এবং পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলির উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি দ্রুত কাজ শুরু করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন নিয়ে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)
মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর, জেলা প্রশাসন, বিধায়ক এবং জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বৈঠকের পর তিনি জানান, পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে এবার বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগের অর্থবর্ষে এই অঞ্চলের জন্য মাত্র ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যার মধ্যে খরচ হয়েছিল মাত্র ৬ কোটি টাকা। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার চলতি অর্থবর্ষের প্রথম আট মাসে মোট ১৬১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য প্রশাসনিক খরচের জন্য এবং ১৬০০ কোটি টাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের আওতায় থাকা ৭৬টি গ্রামীণ ব্লককে এই পরিকল্পনার মধ্যে আনা হয়েছে। এলাকাগুলিতে পরিকাঠামোর পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সামাজিক উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হবে। তপশিলি জাতি, তপশিলি উপজাতি, কুর্মি, বাউড়ি-সহ বিভিন্ন প্রান্তিক সম্প্রদায়ের উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে নয়াগ্রাম, বান্দোয়ান-সহ একাধিক পিছিয়ে থাকা ব্লকের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। কোথায় কী ধরনের প্রকল্প দরকার এবং বরাদ্দ অর্থ কীভাবে খরচ হবে, তা নিয়েও আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের জন্য আলাদা কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমে প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, স্কিম তৈরি এবং ডিপিআর প্রস্তুতের কাজ হবে। তারপর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করে পুজোর পর থেকে মাঠে নেমে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, পিছিয়ে থাকা গ্রামগুলিতে অন্তত ৫০ লক্ষ টাকা করে উন্নয়নমূলক কাজ করা। সেই কাজে বিধায়ক, জেলা প্রশাসন, বিডিও এবং পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিডিওদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই সব বিডিওকে আরও সক্রিয় হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ অর্থ যাতে পড়ে না থাকে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়, সেদিকেও নজর রাখতে বলা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতরের প্রশাসনিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রামে নতুন অফিস চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোলপুরের অফিস চালু রাখার সঙ্গে সঙ্গে সিউড়িতে জেলা পরিষদে একটি ক্যাম্প অফিস খোলার কথাও বলা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আরজি কর তদন্তে নতুন মোড়, অভয়ার ডিনার-সঙ্গীদের ডাকল সিবিআই
প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দফতরের ইঞ্জিনিয়ারিং সেলকে আরও শক্তিশালী করা হবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ইঞ্জিনিয়ারও নিয়োগ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া আইসিডিএস কেন্দ্র, প্রাথমিক স্কুল এবং স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্কুলে আলাদা শৌচাগার, রান্নাঘর ও ডাইনিংয়ের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের গরম আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে স্কুলগুলিতে ফ্যান বসানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)।













