বাংলা হান্ট ডেস্ক : গ্রামবাংলার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় এবার আবাসন সমস্যার সমাধানেও জোর দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য গ্রামীণ এলাকায় উন্নত মানের থাকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Health Minister)। সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পরিদর্শন করছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেই পরিদর্শনেই স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসনের বেহাল দশা তার নজরে এসেছে। এরপরই তাঁদের জন্য নতুন ফ্ল্যাট তৈরির ভাবনা সামনে আনেন তিনি।
স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসন নিয়ে বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর (Health Minister)
সরকারি হাসপাতালগুলির পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায় কর্মরত চিকিৎসক-নার্সদের থাকার জায়গাগুলিও খতিয়ে দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনে গিয়ে বেশ কিছু কোয়ার্টারের দুর্বস্থা চোখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে একাধিক জায়গায় স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তৈরি আবাসন কার্যত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ।
স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার সমস্যা নিয়ে এবার সরাসরি রাজ্যের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “আমি বহু জায়গায় গিয়ে দেখেছি নার্সিং স্টাফদের থাকার জায়গায় খারাপ অবস্থা। জল পড়ছে সাপ ঢুকছে। কীভাবে থাকবেন ওঁরা?” এই পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। চিকিৎসক, নার্স-সহ স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নতুন আবাসন তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “এবার ভাবা হচ্ছে ফ্ল্যাটের। এসি থাকবে। ৩৪১ টি ব্লকের জন্য একই ব্যবস্থার ভাবনা।”
পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের থাকার সমস্যা অনেকটাই মিটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উন্নত আবাসন ব্যবস্থার ফলে গ্রামীণ হাসপাতালগুলিতে কর্মরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাজের পরিবেশও ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আগের সরকারের সময়ে বহু হাসপাতালকে সুপার স্পেশালিটি তকমা দেওয়া হলেও সেগুলির অনেকগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ তোলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন :একসঙ্গে হাজার হাজার চাকরি! নিয়োগে বড় সিদ্ধান্ত রাজ্যের
শারদ্বত জানিয়েছেন, প্রতি মাসে দুটি করে হাসপাতাল পরিদর্শন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। পাশাপাশি রাজ্যের ১৫টি হাসপাতালে ক্যাথল্যাব তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন যে শুধু হাসপাতালের চিকিৎসা পরিকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ ও থাকার পরিবেশ নিয়েও সরকার ভাবছে—এই পরিকল্পনা থেকেই তার ইঙ্গিত মিলছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একাধিক স্তরে পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোরকদমে।













