বাংলা হান্ট ডেস্ক : স্বাধীনতা দিবসের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তার আগেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিধায়কদের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এবার থেকে বিধায়কদের এলাকায় যে সেবাকেন্দ্রগুলি চালানো হবে, সেগুলির সঙ্গে যুক্ত হবে নেতাজির নাম। শুধু নামেই বদল নয়, সেবাকেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মও মেনে চলতে হবে বিধায়কদের। সেই নিয়ম পালন করলে মিলবে আর্থিক সহায়তাও।
‘নেতাজি’-র নামে সেবাকেন্দ্রের ঘোষণা শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari)
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধায়কদের নিজেদের এলাকায় ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু সেবাকেন্দ্র’ চালু করা হবে। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা এবং অভিযোগ বিধায়কদের কাছে জানাতে পারবেন। সেবাকেন্দ্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সেবাকেন্দ্রের নাম নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে রাখার পাশাপাশি বিধায়কদের ধুতি-পাঞ্জাবি পরার নিয়মও মানতে হবে।
তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের পক্ষ থেকে এই পোশাক পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে। নির্ধারিত নিয়ম না মানলে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেবাকেন্দ্র চালানোর জন্য বিধায়কদের ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি দেখার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দু।
পাশাপাশি পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশনেই এই সংক্রান্ত বিল আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর বিজেপির নতুন বিধায়কদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সময় প্রত্যেক বিধায়ককে নিজের বিধানসভা এলাকায় একটি করে কার্যালয় খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার কথা শোনার উদ্দেশ্যেই এই সেবাকেন্দ্র তৈরির ভাবনা নেওয়া হয়েছিল।
এই সেবাকেন্দ্রগুলিতে এলাকার মানুষ এসে রাস্তা, পরিষেবা, প্রশাসনিক সমস্যা থেকে শুরু করে নিজেদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগের কথা বিধায়কদের জানাতে পারেন। ফলে শুধু রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে নয়, জনসংযোগের ক্ষেত্রেও সেবাকেন্দ্রগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এ বার সেই ব্যবস্থাতেই নেতাজির নাম যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ‘বন্দে মাতরম’-এর অপমানে কড়া শাস্তি! হতে পারে ৩ বছরের কারাদণ্ড, রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে তৈরি নতুন আইন
স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিকে সামনে রাখা হচ্ছে, তেমনই বিধায়ক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। আগামী অধিবেশনে বিলটি এলে এই প্রস্তাবের পরবর্তী রূপরেখা আরও স্পষ্ট হবে।













