বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বিচারপতির বিরুদ্ধে অশালীন ও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছিল এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে। এবার সেই ফৌজদারি মামলায় কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর (Justice Tapabrata Chakraborty) ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও বিচারপতির রায়ের সঙ্গে মতপার্থক্য থাকলেও সেই সিদ্ধান্তকে ভুল বলে আক্রমণ করা একজন আইনজীবীর কাজ নয়। বরং ওই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানোই আইনি পথ ও আসল অ্যাডভোকেসি।
কড়া পদক্ষেপ নিল কলকাতা হাইকোর্ট | (Calcutta High Court)
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত আইনজীবী নিজের এক মামলায় কাঙ্ক্ষিত অন্তর্বর্তী নির্দেশ না পেয়ে মেজাজ হারান। এজলাস ছেড়ে বেরনোর সময় বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত অশালীন মন্তব্য তথা স্ল্যাং ব্যবহার করেন।
আরও পড়ুনঃ লাফিয়ে কমবে বিদ্যুতের বিল! এই ৬ ভুল শোধরালেই বাঁচতে পারে অনেক টাকা
এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ওই মন্তব্য যে বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করেই করা হয়েছিল সেই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এমনকি ওই মন্তব্য উচ্চ আদালতের সকল বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করেও করা হয়েছিল বলে ধরা যেতে পারে।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন আইনজীবী। সেই কারণে আদালত আবেদন খারিজ করে দিলে এই ধরণের ভাষার ব্যবহার কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।
প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই বিষয়ে আদালতে চুপ থাকলে সারা দেশে এমন ভুল বার্তা ছড়াতে পারে যে, হাইকোর্টের বিচারপতিদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করলেও আদালত কোনও পদক্ষেপ নেয় না। চরম চাপের পরিস্থিতিতেও আইনজীবীরা মেজাজ হারাতে পারেন। তবে আদালতের ভিতর একজন বিচারপতির বিরুদ্ধে এই ধরণের ভাষার ব্যবহার অত্যন্ত অযৌক্তিক।
হাইকোর্ট জানিয়েছে, আইনজীবী সমাজ ও ওই পেশার গরিমা বজায় রাখার কথা মাথায় রেখে বিষয়টি দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, অভিযুক্তকে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে। সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের সামনে তাঁকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি আদালতের লাইভ স্ট্রিমিং চলার সময় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

এছাড়া হাইকোর্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে আর এই ধরণের ঘটনা ঘটবে না, এই মর্মে অভিযুক্ত আইনজীবীকে মুচলেকা বা হলফনামা এবং লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা জমা করতে হবে। তবে অভিযুক্তের ক্ষমাপ্রার্থনা ও লিখিত অঙ্গীকার আদৌ গ্রহণ করা হবে কিনা তা খতিয়ে দেখার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ক্ষমার ভিত্তিতে অভিযুক্ত আইনজীবীকে ছেড়ে দেওয়া হলেও বিষয়টি উচ্চ আদালতের ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই ফৌজদারি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট করে দিয়েছে, আদালতের রায় পছন্দ না হলে পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যেতেই পারে। তবে কোনও বিচারপতিকে এভাবে আক্রমণ কিছুতেই সহ্য করা হবে না। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে।













