বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভয়াবহ বন্যায় কার্যত বিপর্যস্ত অসম। বেশ কয়েক দিন ধরে রাজ্যের বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী রাজ্যের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিধানসভায় আগেই এই আর্থিক সাহায্যের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণা অনুযায়ী অসম সরকারের কাছে বন্যা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য ১০ কোটি টাকা পাঠিয়েছে রাজ্য।
বির্পযস্ত অসমের পাশে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)
অসমের বিপর্যয়ের খবর সামনে আসার পর থেকেই সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল থেকে অসমকে আর্থিক সহায়তা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি এবার বাস্তবে রূপ পেল। বাংলার তরফে পাঠানো অর্থ অসমের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কাজে ব্যবহার করা হবে।
এই সহায়তার কথা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অসমের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “মানুষ মানুষের জন্য। রাষ্ট্রবাদী সরকার সর্বদা যে কোনও প্রান্তের জনগণের পাশে, এই মন্ত্রেই আমাদের পথ চলা। অসমের এই কঠিন সময়ে বাংলার মানুষ সর্বান্তঃকরণে আপনাদের পাশে রয়েছে। মা কামাখ্যা ও মা কালীর আশীর্বাদে অসমের এই সংকটময় পরিস্থিতি দ্রুত কেটে যাক এবং জনজীবন স্বাভাবিক হোক এই কামনাই করি। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের আত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আগামী দিনে আরও সুদৃঢ় হোক।”
বাংলার এই আর্থিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। দুই রাজ্যের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং মানুষের মধ্যে থাকা সম্পর্কের কথাও তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে। তিনি লেখেন, “অসম ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে দীর্ঘদিনের এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের অভিন্ন সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও দুই রাজ্যের মানুষের আন্তরিকতার বন্ধনে গড়ে উঠেছে এই সম্পর্ক। বন্যা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য অসমের মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ১০ কোটি টাকার সহায়তা প্রদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রীশুভেন্দু অধিকারী মহাশয় এবং বাংলার জনগণের প্রতি অসমবাসীর হয়ে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। মা কামাখ্যা ও মা কালীর আশীর্বাদ আমাদের এই কঠিন সময় অতিক্রম করার শক্তি দিক…এই কামনা করি।”

আরও পড়ুন : কালীঘাট মন্দিরে এবার আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি, নজিরবিহীন উদ্যোগ লালবাজারের
প্রতিবেশী রাজ্যের দুর্যোগের সময়ে বাংলার এই আর্থিক সহায়তা দুই রাজ্যের পারস্পরিক সম্পর্কের দিকটিও সামনে আনল। এখন এই অর্থ বন্যাকবলিত মানুষের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার। পাশাপাশি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হয়ে অসমের জনজীবন স্বাভাবিক হোক, সেই প্রত্যাশাই দুই রাজ্যের মানুষের।













