বাংলা হান্ট ডেস্ক : মহিলা ভোটব্যাঙ্ক টানতে, ভোটের আগে আর্থিক সহায়তায় বিশেষ জোর দেয় রাজ্য সরকার (State Government)। পশ্চিমবঙ্গে পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্প এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছিল অনেক বিশ্লেষকরা। এবার মহিলাদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বিহারে ভোটের আগে যে আর্থিক সহায়তার কৌশল কার্যকর হয়েছিল, এবার তারই বড় সংস্করণ দেখা যেতে পারে উত্তরপ্রদেশে।
মহিলাদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেবে সরকার (State Government)
যোগী আদিত্যনাথের সরকার মহিলাদের হাতে মোট ৫০ হাজার টাকা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিহারের সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কাটাছেঁড়া করতে গিয়ে বারবার উঠে এসেছে মহিলাদের জন্য এককালীন ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার প্রসঙ্গ। জানা গেছে, ভোটের ঠিক আগে মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভোটের অঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলেছিল।
সেই রাজনৈতিক সাফল্যই এবার উত্তরপ্রদেশে কাজে লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে জল্পনা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন উন্নয়ন, হিন্দুত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরকারের ভাবমূর্তির পাশাপাশি নতুন কোনও ভোট-কৌশল নিতে চাইছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
সেখানেই সামনে আসছে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজ্যের মহিলাদের মোট ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে ভোটের আগেই ২০ হাজার টাকা দেওয়া হতে পারে। এরপর নির্বাচনে বিজেপি জয়ী হয়ে ফের সরকার গঠন করতে পারলে বাকি ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে। এই অর্থ মহিলা ভোটারদের প্রভাবিত করার হাতিয়ার হতে পারে।
তবে এই ধরনের আর্থিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটের আগে জনগণের জন্য সরাসরি আর্থিক সুবিধা ঘোষণা করার নজির রয়েছে। শাসক হোক বা বিরোধী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলই সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এই কৌশল নিয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে নগদ সহায়তা কিংবা মাসিক ভাতার মতো প্রকল্প এখন নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন : অবশেষে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করল DA! KMC এলাকার পেনশনারদের বকেয়া নিয়ে স্বস্তির খবর
যদিও রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে দেখলে পরিকল্পনাটির গুরুত্ব অস্বীকার করা কঠিন। একসময় নির্বাচনের আগে এই ধরনের আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিকে ‘রেউড়ি কালচার’ বলে আক্রমণ করা হত। এখন আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিও হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক কৌশলের অন্যতম হাতিয়ার। উত্তরপ্রদেশের এই নীতি ভোটের ফলাফলে সরাসরি প্রতিফলন পড়ে কি না, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।













