বাংলাহান্ট ডেস্ক: রেলস্টেশনে (Indian Railways) যাত্রীদের পানীয় জলের মান নিয়ে ক্যাগের রিপোর্ট (CAG Report) সামনে আসার পরই নড়েচড়ে বসেছে রেল মন্ত্রক। একাধিক স্টেশনের ওয়াটার কুলারের জলে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার (E-Coli Bacteria) উপস্থিতি ধরা পড়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর পরেই রবিবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। যাত্রী পরিষেবায় কোনও ধরণের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। স্টেশনে জল সরবরাহ থেকে শুরু করে তার গুণমান পরীক্ষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ—প্রতিটি ধাপেই নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একাধিক স্টেশনের জলে ই-কোলাই মিলতেই বড় পদক্ষেপ ভারতীয় রেলের (Indian Railways):
রেলের (Indian Railways) তরফে বিভিন্ন স্টেশনে প্রায় ২০ হাজার জায়গায় ‘ট্যাঙ্ক টু ট্যাপ’ জলশোধন ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্টোরেজ ট্যাঙ্ক থেকে যাত্রীদের ব্যবহারের জায়গা পর্যন্ত জল যাতে নিরাপদ থাকে, সেই ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ওয়াটার কুলারগুলিতেও জল পরিশোধনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যেসব জায়গায় পুরনো বা সমস্যাযুক্ত জলের ট্যাঙ্ক রয়েছে, সেগুলি দ্রুত বদলানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত জল পরীক্ষা এবং ট্যাঙ্ক ও স্টোরেজ ব্যবস্থার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সংসদে পেশ হওয়া কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল বা ক্যাগের রিপোর্টেই এই সমস্যার ছবি সামনে আসে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মোট ৪৯টি রেলস্টেশনের পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। তার মধ্যে আটটি স্টেশনের ওয়াটার কুলারের জলে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। তালিকায় রয়েছে মুম্বইয়ের কয়েকটি শহরতলির স্টেশন ছাড়াও কেরল, তামিলনাড়ু এবং ঝাড়খণ্ডের স্টেশন। ই-কোলাই সাধারণত মলদূষণের সঙ্গে যুক্ত একটি ব্যাকটেরিয়া এবং দূষিত জল বা খাবারের মাধ্যমে শরীরে ঢুকলে পেটের অসুস্থতা থেকে শুরু করে গুরুতর সংক্রমণও ঘটতে পারে। ফলে স্টেশনের পানীয় জল নিয়ে এই রিপোর্ট স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ক্যাগের রিপোর্টে যে স্টেশনগুলির জলের নমুনায় ই-কোলাইয়ের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, তার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ রেলের কোয়েম্বাটোর ও পালাক্কড় জংশন, দক্ষিণ-মধ্য রেলের হায়দরাবাদ স্টেশন এবং মধ্য রেলের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ টার্মিনাস, ভিওয়ান্ডি রোড, কল্যাণ ও লোনাভালা। পূর্ব রেলের মধুপুর স্টেশনও রয়েছে সেই তালিকায়। শুধু পানীয় জলের গুণমান নয়, রেলের যাত্রী পরিষেবার সামগ্রিক পরিকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগের রিপোর্ট। বেশ কিছু স্টেশনে শৌচাগার, বসার জায়গা, পানীয় জলের কল এবং অন্যান্য ন্যূনতম পরিষেবার ঘাটতি ধরা পড়েছে। ফলে সমস্যা শুধু জল সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন: ‘বস’ যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স! কর্মীর দেরির হিসাব কষে চাকরি কেড়ে নিল AI ম্যানেজার
পরিস্থিতি যাতে ফের হাতের বাইরে না যায়, সে জন্য রেলবোর্ডকেও (Indian Railways) নিয়মিত নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্টেশনগুলিতে জল পরিষেবা ঠিকমতো পরিচালিত হচ্ছে কি না, নির্ধারিত সময় অন্তর জল পরীক্ষা করা হচ্ছে কি না এবং ট্যাঙ্ক পরিষ্কার রাখা হচ্ছে কি না, সবই খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে নিয়মিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রেল মন্ত্রকের নির্দেশ, যাত্রীদের জন্য সরবরাহ করা জলের ক্ষেত্রে কোনও আপস করা চলবে না। ক্যাগের রিপোর্টে উঠে আসা ঘাটতিগুলি দ্রুত চিহ্নিত করে সংশোধন করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই লক্ষ্যেই জলশোধন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে হাঁটছে রেল।













