বাংলা হান্ট ডেস্কঃ প্রথম স্ত্রীকে আইনত ডিভোর্স না দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় বিয়ে করা, কিংবা তাঁকে ছেড়ে অন্য মহিলার সঙ্গে সংসার করার অভিযোগ নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে স্বামী সরকারি কর্মচারী (Government Employees) হলে প্রথম স্ত্রী অনেক সময় আর্থিক সমস্যায় পড়েন। এই পরিস্থিতি রুখতেই এবার কড়া পদক্ষেপের পথে অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, এমন ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীর বেতনের ২০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। সেই টাকা নির্দিষ্ট নিয়মে প্রথম স্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।
কীভাবে কাটা হবে কর্মচারীদের (Government Employees) বেতন?
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি এমন বেশ কয়েকটি ঘটনা সরকারের নজরে এসেছে। অভিযোগ, কিছু সরকারি কর্মচারী (Government Employees) প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আইনত বিবাহবিচ্ছেদ না করেই তাঁকে ছেড়ে অন্য মহিলার সঙ্গে থাকতে শুরু করেছেন। এতে প্রথম স্ত্রীরা সামাজিক সমস্যার পাশাপাশি আর্থিক সংকটেও পড়ছেন। তাঁদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীর মাসিক বেতনের ২০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। প্রথম স্ত্রী সরকারের কাছে আবেদন করলে সেই কেটে নেওয়া টাকা সরাসরি তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
বিবাহবিচ্ছেদের মামলা আদালতে চললে সেই সময়ও এই ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। কারণ, আইনি বিচ্ছেদ শেষ হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। সেই সময় প্রথম স্ত্রী যাতে কোনও আর্থিক সহায়তা ছাড়াই না থাকেন, সেই লক্ষ্যেই মামলা চলাকালীন বেতন থেকে ২০ শতাংশ কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। তবে শুধু বেতন কেটে নেওয়াই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর (Government Employees) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। সরকারি চাকরির সার্ভিস রুল বা আইন ভাঙার অভিযোগ থাকলে নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
বেসরকারি কর্মীদের নিয়েও ভাবনা
এই ব্যবস্থা ভবিষ্যতে শুধু সরকারি কর্মীদের (Government Employees) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। বিবাহিত মহিলাদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিয়ম চালু করা যায় কি না, তা সরকার বিবেচনা করছে।
বহুবিবাহ রুখতে অসমের কড়া অবস্থান
অসমে একসময় কিছু আদিবাসী সম্প্রদায় এবং মুসলিম সমাজের একাংশের মধ্যে বহুবিবাহের প্রচলন ছিল। তবে সচেতনতা এবং কড়া আইনের কারণে বর্তমানে সেই প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। বহুবিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের নভেম্বরে অসম বিধানসভায় ‘অসম বহুবিবাহ নিরোধ বিল, ২০২৫’ পাশ হয়। পাশাপাশি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা UCC-এর মাধ্যমেও বহুবিবাহকে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা পাননি? কোথায় অভিযোগ জানাবেন, জানিয়ে দিল সরকার
এর আগে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া সরকারি কর্মচারীদের (Government Employees) বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিল অসম সরকার। বাবা-মাকে ভরণপোষণ না দিলে তাঁদের বেতন থেকে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কেটে সেই টাকা সরাসরি বাবা-মায়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর নিয়ম চালু করা হয়েছিল। এবার প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে দ্বিতীয় সংসার করার ক্ষেত্রেও বেতনের ২০ শতাংশ কাটার সিদ্ধান্ত নিল হিমন্ত সরকার।













