বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাঞ্জাবের (Punjab) রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় শিখ (Sikh) সম্প্রদায়ের গুরুত্ব বরাবরই অত্যন্ত বেশি। রাজ্যের নির্বাচনে শিখ ভোট কোন দিকে যাচ্ছে, তার উপর অনেক সময় রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ভর করে। তবে গত কয়েক বছরে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষ পাঞ্জাব ছেড়ে দেশের অন্য রাজ্য কিংবা বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি জন্মহারের পরিবর্তনও রাজ্যের জনসংখ্যার (Population) চিত্রে প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পরিবার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে অকাল তখত। ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানটি শিখদের তুলনামূলক কম বয়সে বিয়ে এবং বেশি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করেছে।
পাঞ্জাবে (Punjab) জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার কারণে নতুন পরামর্শ অকাল তখতের
অকাল তখতের ভারপ্রাপ্ত জথেদার জ্ঞানী কুলদীপ সিং গরগাজ গত ১৭ আগস্ট একটি বিবৃতিতে শিখদের ৩০ বছর বয়সের আগেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি অন্তত তিনটি সন্তান নেওয়ার কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্যের পিছনে শিখ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বরও একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন গরগাজ। তবে এই ধরনের বক্তব্য অকাল তখতের পক্ষ থেকে এই প্রথম নয়। এর আগেও ২০১৫ সালের মে মাসে তৎকালীন জথেদার জ্ঞানী গুরবচন সিং শিখদের জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন (Punjab)।
আরও পড়ুন: সাধারণ মিষ্টিকেই রাম মন্দিরের ‘প্রসাদ’ হিসাবে বিক্রি! Amazon-এর বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন কেন্দ্রের
পরিসংখ্যানেও পাঞ্জাবের জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কিছুটা ছবি ধরা পড়েছে। ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত জাতীয় পরিবার স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, পাঞ্জাবে প্রজনন হার কমে ১.৬-এ দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ২০১১ সালের জনগণনার পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে ভারতের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৭ শতাংশ। সেখানে একই সময়ে শিখ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ছিল ৮.৪ শতাংশ। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা নিয়ে সম্প্রদায়ের ভিতরে উদ্বেগ তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। কর্মসংস্থানের জন্য তরুণ প্রজন্মের রাজ্যের বাইরে চলে যাওয়া এবং কম জন্মহার দুইয়ের প্রভাবেই জনসংখ্যার ভারসাম্য বদলাতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
তবে অকাল তখতের এই পরামর্শকে ঘিরে পাঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে এখনও বড় কোনও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। রাজ্যের শাসকদল আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস এবং শিরোমণি অকালি দল—তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলই গরগাজের বক্তব্য নিয়ে কার্যত নীরব। এর একটি কারণ, পাঞ্জাবের রাজনীতিবিদরা সাধারণত অকাল তখতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে সতর্ক থাকেন। ফলে রাজনৈতিক দলগুলির তরফে প্রকাশ্যে সমর্থন বা বিরোধিতা, কোনওটাই এখনও স্পষ্ট হয়নি।

আরও পড়ুন: ঘনিয়ে আসছে বড় সঙ্কট? AI-র দাপটে ভারতের ১০ টি ব্যাঙ্কে ‘খতম’ ১০,০০০ চাকরি
অন্যদিকে, অকাল তখতের এই বার্তাকে শুধুমাত্র বেশি সন্তান নেওয়ার আহ্বান হিসেবে না দেখে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। পাঞ্জাব থেকে তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতা, কমে যাওয়া প্রজনন হার এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির পার্থক্য—সব মিলিয়েই এই আলোচনা সামনে এসেছে। তবে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ বাস্তবে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। আপাতত অকাল তখতের বক্তব্য পাঞ্জাবের (Punjab) জনবিন্যাস, পরিবার পরিকল্পনা এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনার দরজা খুলে দিয়েছে।













