বাংলাহান্ট ডেস্ক: রেল প্রযুক্তিতে ফের তাক লাগানো সাফল্য চিনের (China)। নিজেদের তৈরি পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভ ট্রেনের (Maglev Train) গতির পুরনো রেকর্ড নিজেরাই ভেঙে ফেলেছেন চিনা গবেষকরা। মাত্র ৫.৩ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে গিয়েছে ১.১ টন ওজনের ওই ট্রেন। পরীক্ষাটি হয়েছে চিনের হুবেই (Hubei) প্রদেশের ডংহু ল্যাবরেটরিতে তৈরি বিশেষ এক কিলোমিটার দীর্ঘ টেস্ট ট্র্যাকে। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চালানো এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন গবেষকরা। গত ছয় মাসে উচ্চগতির ম্যাগলেভ প্রযুক্তিতে এটি চিনের তৃতীয় নতুন রেকর্ড। এর আগে একই পরীক্ষামূলক ট্রেন মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতি অর্জন করেছিল। এবার সেই সীমাও পেরিয়ে গেল প্রযুক্তিটি।
রেল প্রযুক্তিতে ফের তাক লাগানো সাফল্য চিনের (China)
তবে এই পরীক্ষার সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক শুধু ৮০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছনো নয়, এত দ্রুতগতির ট্রেনকে নিরাপদে থামানোও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। গবেষকদের দাবি, মাত্র ২০০ মিটারের মধ্যে ট্রেনটিকে ফের শূন্য গতিতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। এমনকি পরীক্ষার সময় ট্রেনের ভিতরে রাখা এক গ্লাস জলও উল্টে যায়নি বলে জানানো হয়েছে। অবশ্য এই সাফল্যকে যাত্রী পরিবহণের বাস্তব প্রযুক্তি হিসেবে দেখার সময় এখনও আসেনি। ট্রেনটি সম্পূর্ণ পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করে তোলাই গবেষকদের লক্ষ্য (China)।
আরও পড়ুন: নির্বাচনে মিলেছে বড় জয়! বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হলেন BNP-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল
ম্যাগলেভ প্রযুক্তির মূল সুবিধা হল, প্রচলিত ট্রেনের মতো এখানে চাকা ও রেলের সরাসরি ঘর্ষণ নেই। শক্তিশালী ইলেক্ট্রোম্যাগনেটের সাহায্যে ট্রেনকে ট্র্যাকের উপর কার্যত ভাসিয়ে রাখা হয় এবং চৌম্বকীয় শক্তির মাধ্যমেই তাকে সামনে এগিয়ে দেওয়া হয়। ফলে চাকা ও রেলের ঘর্ষণজনিত বাধা অনেকটাই কমে যায়। এই প্রযুক্তির সাহায্যেই অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ট্রেন চালানো সম্ভব হচ্ছে। চিনা (China) গবেষকরা এখন আরও উন্নত ‘আল্ট্রা-হাই-স্পিড’ ম্যাগলেভ নিয়ে কাজ করছেন। এমনকি বাতাসের বাধা কমাতে শূন্য-বায়ুচাপের টিউবের ভিতর দিয়ে ট্রেন চালানোর প্রযুক্তিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তিকে মহাকাশ গবেষণা বা রকেট উৎক্ষেপণের মতো ক্ষেত্রেও কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা চলছে।
উচ্চগতির রেল ব্যবস্থায় চিন ইতিমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম এগিয়ে থাকা দেশ। দেশজুড়ে প্রায় ১.৬ লক্ষ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে এবং তার বড় অংশেই হাই-স্পিড ট্রেন চলাচল করে। চিনের ফুকসিং হাও-সহ বাণিজ্যিক উচ্চগতির ট্রেনগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ছুটতে পারে। সাধারণ বুলেট ট্রেনগুলিও প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার গতিতে চলাচল করে। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকসের সময় থেকে উচ্চগতির রেল পরিকাঠামো তৈরিতে চিন বিশেষ জোর দেয়। সেই দীর্ঘ পরিকল্পনার ফলেই আজ দেশটি দ্রুতগতির রেল ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য জায়গা করে নিয়েছে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনে মিলেছে বড় জয়! বাংলাদেশের ২৩ তম রাষ্ট্রপতি হলেন BNP-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল
ভারতের ক্ষেত্রেও অবশ্য উচ্চগতির রেল নিয়ে কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। মুম্বই-আহমেদাবাদ হাই-স্পিড রেল করিডর সেই উদ্যোগের অন্যতম বড় উদাহরণ। তবে গতির দিক থেকে তুলনা করতে গেলে পরীক্ষামূলক ম্যাগলেভের সঙ্গে সাধারণ যাত্রীবাহী ট্রেনকে এক মাপকাঠিতে দেখা ঠিক হবে না। বন্দে ভারতের সর্বোচ্চ অনুমোদিত গতি প্রায় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার হলেও, ভারতের রেল নেটওয়ার্কের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল ব্যাপক বৈদ্যুতিকীকরণ। ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকীকরণ কার্যত সম্পূর্ণ হয়েছে। ফলে চিনের (China) পরীক্ষামূলক ৮০০ কিলোমিটার গতির ম্যাগলেভ যেমন ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তেমনই ভারতও নিজের পরিকাঠামোকে আধুনিক করে উচ্চগতির রেলের দিকে এগোচ্ছে।














