বাংলা হান্ট ডেস্ক: উৎসবের মরশুম শুরুর আগেই চিনির দামে (Sugar Price) বড়সড় চাপ তৈরি হয়েছে। খুচরো বাজারে গত এক মাসে কেজি প্রতি চিনির দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০ জুলাই যেখানে দেশের (India) বাজারে চিনির গড় খুচরো দাম ছিল ৪৮.১৮ টাকা প্রতি কেজি, ২০ আগস্ট তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫.৭০ টাকায়। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে কেজিতে ৭.৫২ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে মিষ্টি, বেকারি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়। সামনে দুর্গাপুজো, দীপাবলির মতো বড় উৎসব থাকায় চাহিদা আরও বাড়তে পারে। ফলে এখন থেকেই দাম নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে সাধারণ মানুষের খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশে হঠাৎ চিনির মূল্যবৃদ্ধির (Sugar Price) নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে তা জানালো কেন্দ্র:
চিনির (Sugar Price) এই মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ইথানল উৎপাদনের সম্পর্ক রয়েছে বলে যে দাবি উঠেছিল, তা অবশ্য সরাসরি নস্যাৎ করেছে কেন্দ্র। শুক্রবার ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইথানল তৈরির জন্য চিনি সরিয়ে নেওয়াই বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ নয়। সরকারের ব্যাখ্যায়, প্রত্যাশার তুলনায় কম চিনি উৎপাদন, উৎসবের আগে বাড়তে থাকা চাহিদা, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আখের ফলনে প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের ঘাটতি—সব মিলিয়েই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত মজুত এবং ফটকা কারবারের সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কেন্দ্র। অর্থাৎ সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য নষ্ট হওয়াকেই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
আরও পড়ুন:‘চিকেনস নেক’ সুরক্ষায় ত্রিমুখী নিরাপত্তাবলয়! নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে বাড়ছে নিরাপত্তা
চিনির বাজারে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার মজুতদারির বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সব ব্যবসায়ী মাসে ১০ মেট্রিক টনের বেশি চিনি কেনাবেচা করেন, তাঁরা নিজেদের গুদামে ১৫ দিনের বেশি চিনি মজুত করে রাখতে পারবেন না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মজুত পণ্য বাজারে ছাড়া হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফে নিয়মিত নজরদারি এবং ১৫ দিন অন্তর অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার কথা এবং তা ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। মূল লক্ষ্য হল উৎসবের সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা আটকানো এবং সাধারণ মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা।
এদিকে, ভারতের চিনি উৎপাদন নিয়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি ভারত উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিনি রপ্তানিও করেছে। কিন্তু এ বছর উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রায় এক দশক পর ভারত ফের বড় পরিমাণে চিনি আমদানির কথা বিবেচনা করছে। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি আলাদা, তবে এমন সম্ভাবনাই দেশের বাজারের পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাচ্ছে। ইথানল উৎপাদন নিয়ে কেন্দ্রের নীতির পাশাপাশি আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতিও দেশীয় চিনির জোগানে প্রভাব ফেলছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য।

আরও পড়ুন:ভারতীয় সেনার আধিকারিক এবং জওয়ানদের জন্য বিশেষ ক্রেডিট কার্ড আনছে PNB! মিলবে একগুচ্ছ সুবিধা
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ অবশ্য আসন্ন উৎসবের মরশুমকে ঘিরে। ভারতে চিনির (Sugar Price) চাহিদা এমনিতেই বিপুল, তার উপর দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ একাধিক উৎসবে মিষ্টি ও বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের উৎপাদন বেড়ে যায়। চিনির দাম দীর্ঘদিন বেশি থাকলে শুধু মিষ্টির দামই নয়, বিস্কুট, বেকারি পণ্য, পানীয়-সহ একাধিক পণ্যের উৎপাদন খরচও বাড়তে পারে। তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে ক্রেতাদের পকেটে। তাই উৎসবের আগে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মজুতদারি ঠেকানোই এখন কেন্দ্রের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আগামী কয়েক মাসে সরকারি পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করবে চিনির বাজারের ভবিষ্যৎ।













