বাংলা হান্ট ডেস্ক: কাশ্মীরের (Kashmir) বান্দিপোরা জেলার জিবরান খানের (Jibran Khan) একজন সফল (Success Story) উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার কাহিনিটা একেবারেই সহজ ছিল না। একসময় পর্যটন ব্যবসায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ধাক্কাই তাঁকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। আজ তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘জিরো মাইলস’ শুধু একটি ক্যাফে নয়, বরং জম্মু-কাশ্মীরের ছোট শহরগুলিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা একটি ফুড চেইন। বর্তমানে সংস্থাটির মোট নয়টি আউটলেট রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১,৩০০ জন গ্রাহক সেখানে খাবার ও পরিষেবা পান। একই সঙ্গে এই উদ্যোগে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১২০ জনের। সংস্থার বার্ষিক টার্নওভারও পৌঁছেছে প্রায় ৮.৪ কোটি টাকায়।
জিবরান খানের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
পর্যটন নিয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন জিবরান। পড়াশোনা শেষ করে পরিবারের পরামর্শে চণ্ডীগড়ের একটি আইটি সংস্থায় চাকরিও নেন। তবে নিজের রাজ্যে কিছু করার ইচ্ছা তাঁর বরাবরই ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে বান্দিপোরায় ফিরে গুরেজ উপত্যকাকে কেন্দ্র করে ট্যুর অ্যান্ড ট্র্যাভেল ব্যবসা শুরু করেন। কিন্তু ২০১৬ সালে কাশ্মীরের অশান্ত পরিস্থিতি, বারবার কারফিউ এবং ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁর ব্যবসা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে। প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতির পর বাধ্য হয়ে তিনি দুবাই চলে যান। সেখানে প্রায় দু’বছর হসপিটালিটি সেক্টরে কাজ করেন। রেস্তোরাঁ পরিচালনা, গ্রাহক পরিষেবা এবং ব্যবসা সামলানোর সেই অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁর নতুন উদ্যোগের ভিত তৈরি করে (Success Story)।
আরও পড়ুন: ইথানল নয়, চিনির দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ, কী জানাল কেন্দ্র?
দুবাই থেকে কাশ্মীরে ফেরার পর জিবরানের নজরে আসে একটি বড় সুযোগ। শ্রীনগরে ভালো মানের ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ থাকলেও আশপাশের ছোট শহরগুলিতে তেমন বিকল্প ছিল না। ফলে ভালো খাবারের জন্য অনেককেই শ্রীনগরে যেতে হত। জিবরান বুঝতে পারেন, এই সমস্যার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ব্যবসার সম্ভাবনা। বড় শহরের প্রতিযোগিতায় না গিয়ে তিনি ছোট শহরকেই নিজের বাজার হিসেবে বেছে নেন। ২০১৮ সালে নিজের সঞ্চয় এবং এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় উত্তর কাশ্মীরের সোপোরে ‘জিরো মাইলস’-এর প্রথম আউটলেট খোলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল শুধু খাবারের ব্যবসা করা নয়, বরং এমন একটি ব্র্যান্ড তৈরি করা, যার মাধ্যমে স্থানীয় যুবকদেরও কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
শুরু থেকেই ‘জিরো মাইলস’-কে অন্যদের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করেন জিবরান। বিভিন্ন আউটলেটের অন্দরসজ্জায় স্থানীয় সংস্কৃতি ও এলাকার নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরেন তিনি। খাবারের তালিকাতেও রাখা হয় ফাস্ট ফুড, ভারতীয় খাবার এবং ফিউশন আইটেমের মিশেল। এর মধ্যে ‘স্পেশাল বাটার চিকেন পিৎজা’ এবং বাটার চিকেন ক্রমেই ক্রেতাদের অন্যতম পছন্দ হয়ে ওঠে। প্রচারের জন্য বিপুল অর্থ খরচ করার বদলে জিবরান গুরুত্ব দেন খাবারের মান, পরিষেবা এবং গ্রাহকের আস্থার উপর। মুখে মুখে প্রচার এবং নিয়মিত ক্রেতাদের ভরসাই ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসাকে বড় করে তোলে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্য ২০২৮-এর T20 বিশ্বকাপ! ক্রিকেটে নতুন ইতিহাস গড়ল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর দেশ
তবে সাফল্যের (Success Story) পথে কোভিডের সময়ও বড় ধাক্কা এসেছিল। দীর্ঘ লকডাউনের কারণে রেস্তোরাঁ ব্যবসা প্রায় থমকে যায়। কিন্তু আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবারও নতুন করে শুরু করেন জিবরান। ধীরে ধীরে ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ায় এবং মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই নয়টি আউটলেটের ফুড চেইনে পরিণত হয় ‘জিরো মাইলস’। এবার জম্মু-কাশ্মীরের আরও শহরের পাশাপাশি দেশের বড় মহানগর এবং বিদেশেও, বিশেষ করে দুবাইয়ে, ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে ব্যবসা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। জিবরানের মতে, সাফল্যের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল হওয়ার অপেক্ষা করলে চলবে না। হাতে যা আছে, তা দিয়েই শুরু করে লক্ষ্য ধরে এগিয়ে যাওয়াই আসল। তাঁর নিজের জীবনই যেন সেই কথার বাস্তব উদাহরণ—একবার বড় ক্ষতির মুখে পড়েও থেমে না গিয়ে নতুন পথে শুরু করে আজ তিনি তৈরি করেছেন কোটি টাকার ব্যবসা।













