বাংলার চাল এবার বিশ্ব বাজারে! আন্তর্জাতিক রাইস মিল তৈরির কথা‌ জানালেন কৃষিমন্ত্রী

Published on:

Published on:

West Bengal rice will now be exported to the global market
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলার মাটির দুই সুগন্ধি চাল (West Bengal Rice) এবার রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছতে পারে বিদেশের বাজারে। গোবিন্দভোগ এবং তুলাইপাঞ্জি—দুটি চালই ইতিমধ্যে জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। এবার সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে এই দুই চালের চাহিদা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে রাজ্য। সেই লক্ষ্যেই বাংলায় আন্তর্জাতিক মানের রাইস মিল তৈরির উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

বাংলার চাল (West Bengal Rice) নিয়ে বড় পরিকল্পনা

সম্প্রতি রাইস মিলার এবং বাসমতি চাল রফতানিকারক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল। বৈঠকে বাংলার বিশেষ প্রজাতির চালের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিদেশে রফতানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানেই গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জিকে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়ার জন্য রাজ্যে আধুনিক চালকল তৈরিতে আগ্রহ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

তবে বিদেশের বাজারে বাংলার এই দুই চালকে তুলে ধরতে গেলে প্রথমেই বাড়াতে হবে উৎপাদন। কারণ, তুলাইপাঞ্জির চাষ রাজ্যের সর্বত্র হয় না। উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই মূলত এই চালের চাষ সীমাবদ্ধ। ফলে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে গোবিন্দভোগের তুলনায় তুলাইপাঞ্জি অনেকটাই কম মেলে। গোবিন্দভোগের ক্ষেত্রেও উৎপাদন কয়েকটি নির্দিষ্ট জেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়মিত জোগান বজায় রাখতে হলে চাষের পরিমাণ বাড়ানো এবং আধুনিক প্রক্রিয়াকরণের ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সংশ্লিষ্ট রফতানিকারক সংস্থার প্রতিনিধিরা রাজ্যে এসে সম্ভাব্য পরিকাঠামো ও জমি পরিদর্শন করবেন। কৃষি দফতরও ইতিমধ্যে উপযুক্ত জমির খোঁজ শুরু করেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্ধমান এবং উত্তর দিনাজপুরে দুটি রাইস মিল গড়ে তোলার কথা রয়েছে। উৎপাদনকেন্দ্রের কাছাকাছি প্রক্রিয়াকরণ পরিকাঠামো তৈরি হলে রফতানির ব্যবস্থাও সহজ হতে পারে। রফতানির পাশাপাশি ধানের ফলন বাড়াতে কৃষি বিশেষজ্ঞরা উন্নত প্রজাতির বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন। উৎপাদন বাড়লে বিদেশে পাঠানোর মতো পর্যাপ্ত চালের জোগান তৈরি করার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকরাও লাভবান হতে পারেন। দিল্লির বৈঠক নিয়ে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল জানিয়েছেন, “বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাইরের রাজ্যে নয়, বাইরের দেশ অর্থাৎ বিদেশে চাল রফতানি করা এবং ধানের উৎপাদন বাড়িয়ে চাষিদের লাভবান করার জন্যই দিল্লিতে বৈঠক করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে পদক্ষেপ করা হবে।”

West Bengal rice will now be exported to the global market

আরও পড়ুন :রান্নার গ্যাস নিয়ে কেন্দ্রের নয়া নিয়ম! কোন বাড়িতে আর দেওয়া হবে না LPG সিলিন্ডার ?

উল্লেখ্য, জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পরেও গোবিন্দভোগ ও তুলাইপাঞ্জির বাজার মূলত দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এবার আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা তৈরি করে সেই ছবিই বদলানোর চেষ্টা চলছে। পরিকল্পনা সফল হলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই দুই চাল যেমন বিদেশের বাজারে নতুন পরিচিতি পেতে পারে, তেমনই তার সুফল পৌঁছতে পারে রাজ্যের ধানচাষিদের কাছেও।