বাংলা হান্ট ডেস্কঃ যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে (Jadavpur University) বিগত কদিন ধরে যে ঘটনা ঘটে চলেছে তারই প্রতিবাদ জানাতে তথা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধা এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে মঙ্গলবার রাজপথে নেমেছিল নাগরিক সমাজ। সেই মিছিলে এদিন পা মিলিয়ে ছিলেন যাদবপুর ইউনিভার্সিটির প্রাক্তনী তথা RSS-র প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু (Jishnu Basu)। ওই মিছিল থেকেই এদিন যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে চলতে থাকা লাল সন্ত্রাস কড়া সমালোচনা করলেন তিনি।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতন্ত্র ফেরানোর মিছিলে RSS প্রচার প্রমুখ জিষ্ণু বসু
চরম কটাক্ষের সুরে জিষ্ণু বাবু এদিন বললেন, ‘যেখানেই বিরোধী কোন মত দেখা যাবে, সেখানেই তার ওপর হিংস্র নেকড়ের মত ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমি বুঝতে পারি না ট্রাফিক জামের সময় এখানে উপস্থিত ছিলাম। তখন বিবেক অগ্নিহোত্রীর গাড়িতে থুতু দিয়ে, তার ওপরে লাঠি দিয়ে মেরে যা করা হয়েছে কিংবা বাবুল সুপ্রিয়র ওপরে যেভাবে আঘাত করা হয়েছে, যেভাবে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কিংবা আগের যে শিক্ষা মন্ত্রী ছিলেন রাতে বসুর গাড়িতে এই যে নাটকগুলো করা হয় এই নাটকগুলোর মধ্যে কালচারাল মার্কসিজমের যে ভাবনা, সেই ভাবনাকে প্রথিত করা হয়।’
এরপরই তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘তার জন্যই স্বপ্নদ্বীপকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে। তাঁকে কেউ মারেনি কারোর শাস্তি হয়নি। এই যে সাংঘাতিক নিষ্ঠুরতা, এই যে লাল সন্ত্রাস তার সাথে যুক্ত আছে সংবাদমাধ্যমের একটা অংশ। সংবাদ মাধ্যমের সেই অংশই এই লাল সন্ত্রাসের যে বীভৎস রূপ, সেটাকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আজকে অধ্যাপক শিক্ষক এবং সারস্বত সমাজ যে রাস্তায় নেমেছেন তার প্রতিবাদ করার জন্য।’
আরও পড়ুনঃ বন্ধ সরকারি ডাক্তারদের প্রাইভেট প্রাকটিস? স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশিকায় হইচই ডাক্তারমহলে
বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের দাবি গেরুয়া গুন্ডামি চলছে যাদবপুরের মাটিতে, এবং বিজেপি বিধায়ক এসে যে মন্তব্য করেছিলেন তাঁর সেই মন্তব্যের কড়া নিন্দা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে গৈরিকিকরণ হতে দেব না। এই প্রসঙ্গে জিষ্ণু বসু পাল্টা প্রশ্ন, ‘স্বপ্নদ্বীপকে কে মেরেছিল? গোপাল চন্দ্র সেন কে ক্যাম্পাসের মধ্যে কে খুন করেছিল? একজন শিক্ষা মন্ত্রী তিনি যদি ক্যাম্পাসে আসেন তার ওপর ওয়াইল্ড ক্যাট থ্রেট ইউনিয়ানিজম করতে হবে এটা কারা করেছে? এগুলোর উত্তর দিন? দেখুন একটা সবচেয়ে দুঃখের বিষয় এই লাল সন্ত্রাসের সঙ্গে খবরের কাগজ, এবং মিডিয়ার একটা অংশ তারা এই ইকো সিস্টেমের সঙ্গে বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত আছে। সেই বাস্তুতন্ত্র দেখাচ্ছে লাল সন্ত্রাস এখানে নেই। যে লাল সন্ত্রাস এখানে আছে সেই বীভৎসর চেহারা দেখলে যে কোন মানুষের গা শিউরে উঠবে।’
প্রসঙ্গত কলকাতার যাদবপুর ইউনিভার্সিটির সুনাম নিয়ে বারবার কথা বলতে শোনা গিয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা হবে ইউনিভার্সিটির বাইরে এবং ভেতরে। তারপরেও যাদবপুর নিয়ে এত বিতর্ক হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হলে জিষ্ণু বসু বললেন, ‘জাতীয়তাবাদ তো যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে শুরু থেকেই আছে।’
যাদবপুরের লাল সাম্রাজ্য শেষ হওয়ার প্রসঙ্গে জিষ্ণু বসু এদিন বললেন, ‘অবশ্যই এই লাল সন্ত্রাস আমাদের সংস্কৃতি নয়, আমাদের সংস্কৃতিকে কালিমালিপ্ত করছে। এই লাল সন্ত্রাস স্বপ্নদ্বীপের মতো মৃত্যু আর ওই ইংরেজি বিভাগের যে হতভাগ্য মেয়েটির মৃত্যু এগুলোর জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। র্যাগিং বন্ধ হওয়া দরকার, নেশা দ্রব্য যাতে যাদবপুর ইউনিভার্সিটির মধ্যে না ঢোকে তার ব্যবস্থা করা দরকার।’













