বাংলাহান্ট ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) নাসিকের তুষার তালওয়ারের (Tushar Talware) সাফল্যের (Success Story) পথচলাটা শুরু হয়েছিল একেবারেই অন্যরকম স্বপ্ন নিয়ে। ছোটবেলা থেকেই যন্ত্রপাতির প্রতি তাঁর আলাদা আগ্রহ ছিল। বাড়ির মিক্সার কিংবা গ্রাইন্ডারে সমস্যা হলে নিজেই তা সারানোর চেষ্টা করতেন। ২০১৪ সালে দশম শ্রেণি পাশ করার পর নাসিক থেকেই মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন। পরে মুম্বই থেকে বি.টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পড়াশোনা শেষ করে অবশ্য প্রচলিত চাকরির পথ বেছে নেননি তুষার। বরং এমন একটি ক্ষেত্র বেছে নিলেন, যা শুরুতে তাঁর পরিচিতদের অনেকের কাছেই ছিল অবাক হওয়ার মতো সিদ্ধান্ত। আজ সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে।
তুষার তালওয়ারের অসাধারণ সাফল্যের (Success Story) কাহিনি
কলেজে পড়ার সময় নানা চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল তুষারকে। সেই সময় তিনি ইসকনের সঙ্গে যুক্ত হন। আশ্রমে কাটানো সময় এবং সেখানকার জীবনযাত্রা তাঁকে স্বাস্থ্যকর খাবার ও দেশীয় শস্যের গুরুত্ব নতুন করে বুঝতে সাহায্য করে। পরে ‘মিলেট ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ হিসেবে পরিচিত ড. খাদের ওয়ালির বিভিন্ন বক্তব্য ও সেশন থেকেও অনুপ্রেরণা পান তিনি। ধীরে ধীরে বাজরা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়। বড় কোনও বিনিয়োগ বা আর্থিক সাহায্য ছাড়াই নিজের মাত্র ৩,৫০০ টাকা দিয়ে ৩০ কেজি বাজরা কিনে ব্যবসার প্রথম ধাপ শুরু করেন তুষার। সেই ছোট্ট শুরুটাই পরবর্তীতে বড় উদ্যোগের ভিত্তি তৈরি করে (Success Story)।
২০২০ সালে কোভিডের সময় লকডাউন শুরু হলে নাসিকে ফিরে আসেন তুষার। তখনই নিজের পরিকল্পনাকে বাস্তব রূপ দেওয়ার সুযোগ পান তিনি। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে পরিচিতদের কাছে বাজরা বিক্রি শুরু করেন। পাশাপাশি ইন্ডিয়া পোস্টের সাহায্যে ৫ কেজির প্যাকেট বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতেন। অল্প অল্প করে ক্রেতা বাড়তে থাকে। চাহিদা সামলাতে মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা ভাড়ায় প্রায় ১৫০ বর্গফুটের একটি জায়গা নেন। তবে ব্যবসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে শুনতে হয়েছে নানা কটাক্ষও। ২০২১ সালে আত্মীয়-পরিজন জানতে পারেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হয়েও তুষার নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য প্যাক করছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এমন কাজ করার প্রয়োজন কী? পরিবারের তরফেও চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরামর্শ এসেছিল।
কিন্তু তুষার পিছিয়ে যাননি। ব্যবসা থেকে যে টাকা আসত, তার বড় অংশই ফের নতুন করে কাজে লাগাতেন। কোনও বড় আর্থিক সহায়তা ছাড়াই ধীরে ধীরে পরিকাঠামো বাড়াতে থাকেন। পরে প্রায় ১,৫০০ বর্গফুটের জায়গায় কাজ শুরু করে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনের মাধ্যমে পণ্যের পরিসরও বাড়ান। শুধু বাজরা বিক্রি করার মধ্যে ব্যবসাকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। নুডলস, ময়দা, কুকিজ-সহ একাধিক খাদ্যপণ্য বাজারে আনেন। গবেষণা, বাজারের চাহিদা বোঝা এবং সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয়—এই তিনটি বিষয়কে ব্যবসার বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন তুষার। তাঁর উদ্যোগের নাম হয় ফুডোনিক। ধীরে ধীরে ছোট পরিসরের সেই উদ্যোগই বড় খাদ্যপ্রস্তুতকারক সংস্থায় পরিণত হতে শুরু করে।

আরও পড়ুন:নেপালে হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয়! ত্রাণ নিয়ে রওনা হল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান, প্রস্তুত NDRF-ও
বর্তমানে ফুডোনিকের ঝুলিতে রয়েছে ২০০-রও বেশি বাজরাভিত্তিক পণ্য এবং ১০০-র বেশি ধরনের স্বাস্থ্যকর খাকরা। অর্থাৎ, যে ব্যবসা একসময় মাত্র ৩০ কেজি বাজরা দিয়ে শুরু হয়েছিল, সেটিই এখন যথেষ্ট বড় পরিসরে পৌঁছে গিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থাটি প্রায় ২.৫ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে বলে জানা যাচ্ছে। তুষারের এই যাত্রা তাই শুধু একজন ইঞ্জিনিয়ারের ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার গল্প নয়; বরং প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের উপর আস্থা রাখার উদাহরণ। আত্মীয়দের কটাক্ষ, পরিবারের উদ্বেগ কিংবা আর্থিক সীমাবদ্ধতা—কোনও কিছুই তাঁকে লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। নিজের সঞ্চয় দিয়ে শুরু করা সেই ছোট উদ্যোগ আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা, অধ্যবসায় এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে ছোট শুরু থেকেও বড় সাফল্যের রাস্তা তৈরি করা যায় (Success Story)।













