জিনপিংয়ের ভারত সফরের আগে বেজিংয়ে ডোভাল-ওয়াং বৈঠক! কোন কোন বিষয়ে হল আলোচনা?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারত-চিন (India-China) সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপায় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল (Ajit Doval) এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (Wang Yi)। বেজিংয়ে দুই দেশের বিশেষ প্রতিনিধিদের বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সীমান্ত সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথ নিয়ে কথা হয়। এই বৈঠকের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে, কারণ আগামী দিনে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভারত সফরের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শীর্ষ পর্যায়ের সেই সফরের আগে ডোভাল-ওয়াং বৈঠককে দু’দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বেজিং থেকে ভারত-চিন (India-China) সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায়ের বার্তা ডোভালের:

বৈঠকের শুরুতেই সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রয়োজনীয়তার কথা স্পষ্ট করে দেন ডোভাল। তাঁর বক্তব্য, সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত থাকলেই ভারত-চিন (India-China) সম্পর্ককে স্বাভাবিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তাই সীমান্ত এলাকায় ইতিমধ্যে যে ব্যবস্থা ও যোগাযোগের মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার চেষ্টা চলছে, সেগুলিকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে কোনও ধরনের ভুল বোঝাবুঝি যাতে বড় সমস্যার কারণ না হয়, সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে চিনের অবস্থানের প্রেক্ষাপটেও ডোভালের এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে ।

আরও পড়ুন: সামনে এল এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের শিডিউল! কবে, কাদের মুখোমুখি হবে ভারতের মেন্স ও ওমেন্স টিম?

সীমান্ত পরিস্থিতির উন্নতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সীমান্ত বাণিজ্য ফের চালুর বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। ডোভাল জানান, নাথু লা দিয়ে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রা সফল ভাবে আয়োজন এবং তিনটি গিরিপথের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় শুরু হওয়ায় দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ উপকৃত হয়েছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের জনকেন্দ্রিক যোগাযোগ এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা গেলে দু’দেশের মধ্যে আস্থা আরও বাড়তে পারে। শুধু রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক স্তরে নয়, সাধারণ মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগও ভারত-চিন সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

অন্যদিকে, ভারত-চিন সম্পর্কের গুরুত্ব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলেই মন্তব্য করেছেন ওয়াং ই। তাঁর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্কের একটি বৃহত্তর কৌশলগত ও বৈশ্বিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। তাই দু’পক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বাড়ানো, পারস্পরিক বিশ্বাস তৈরি করা এবং মতবিরোধের জায়গাগুলি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা প্রয়োজন। ওয়াং ই আরও জানান, ভারত ও চিনের উচিত এমন প্রতিবেশী হিসেবে কাজ করা, যারা একে অপরের উন্নতি ও সাফল্যের পথে বাধা না হয়ে সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে। সীমান্ত নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রেও যোগাযোগ বজায় রাখার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।

Doval conveys message from Beijing on maintaining peace and stability along India-China border.

আরও পড়ুন: কাছে রাখুন ছাতা! আগামী দু’ঘণ্টায় আবহাওয়ার বড় বদল দক্ষিণবঙ্গে, ঝড়-বৃষ্টি চলবে রবিবার অবধি

সব মিলিয়ে, ডোভাল-ওয়াং বৈঠকে সীমান্ত সমস্যার কোনও তাৎক্ষণিক সমাধান না হলেও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে দু’পক্ষের আগ্রহের ইঙ্গিত মিলেছে। সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি বাণিজ্য, তীর্থযাত্রা এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টিও যে সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তা স্পষ্ট হয়েছে। সামনে ব্রিকস সম্মেলন এবং সম্ভাব্য শি জিনপিংয়ের ভারত সফরকে ঘিরে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতিতে বেজিংয়ের এই বৈঠক ভবিষ্যতে ভারত-চিন সম্পর্ককে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর পথে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠতে পারে।