বাংলাহান্ট ডেস্ক: মধ্য এশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই ফের বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। উজবেকিস্তান (Uzbekistan)ও কিরগিজস্তানের (Kyrgyzstan) উদ্দেশে রওনা হয়েছেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রথমে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে দু’দিন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি যাবেন কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে, সেখানেও দু’দিন কাটানোর কথা রয়েছে তাঁর। এই সফরকে ভারত-মধ্য এশিয়া সম্পর্কের পাশাপাশি সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন বা এসসিও-র মঞ্চে ভারতের ভূমিকা আরও সক্রিয় করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
উজবেকিস্তান-কিরগিজস্তানে চারদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)
রওনা হওয়ার আগে সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) জানান, ২০১৭ সাল থেকে এসসিও-র সক্রিয় এবং গঠনমূলক সদস্য হিসেবে ভারত ধারাবাহিক ভাবে কাজ করে আসছে। নিরাপত্তা, সংযোগ এবং নতুন সুযোগ তৈরির মতো বিষয়গুলিকে সামনে রেখে ভারতের অবস্থান তুলে ধরতে চান তিনি। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং চরমপন্থার মতো চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে সদস্য দেশগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মোদি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি শুধু কোনও একটি দেশের নয়, গোটা অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর প্রভাব ফেলে। তাই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও নিরাপদ ও স্থিতিশীল মধ্য এশিয়া গড়ে তোলাই ভারতের অন্যতম লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: বাবা চালাতেন ট্যাক্সি! কলেজে করেন ফেল, আজ ৮০০ কোটির অ্যারোস্পেস কোম্পানির মালিক আনন্দ
তাসখন্দে পৌঁছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিক হল শাস্ত্রী মেমোরিয়াল এবং তাসখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের মহাত্মা গান্ধী সেন্টার পরিদর্শন। ভারত ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের নানা দিকও এই সফরে উঠে আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এ নিয়ে চতুর্থবার উজবেকিস্তান সফরে যাচ্ছেন মোদি। এর আগে ২০২২ সালে এসসিও শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে তাসখন্দে গিয়েছিলেন তিনি। ফলে এবারের সফরেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং নিরাপত্তার মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
PM Modi emplanes for Tashkent, Uzbekistan, beginning an important visit focused on strengthening India-Uzbekistan ties, deepening strategic cooperation and advancing shared priorities.
Watch. ⬇️ pic.twitter.com/vZlTLTM3fd
— BJP (@BJP4India) August 29, 2026
উজবেকিস্তান পর্ব শেষ করে মোদি কিরগিজস্তানের বিশকেকের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৬তম এসসিও শীর্ষ সম্মেলন। এই বৈঠকে সদস্য দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্যিক সুযোগ বাড়ানোর মতো বিষয়গুলি আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে ক্রমশ গভীর হয়েছে। তাই এই সফরের মাধ্যমে সেই অংশীদারিত্বকে আরও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র! ভারতে বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিল নেপাল
তবে এই সফরটি প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ধারাবাহিকতারও অংশ। এর আগে ৬ থেকে ১১ জুলাই ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড সফর করেছিলেন মোদি (Narendra Modi)। সেই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ভারতের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে আরও জোরদার করা এবং ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করা। এবার নজর মধ্য এশিয়ার দিকে। ফলে তাসখন্দ থেকে বিশকেক— প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধু কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মধ্য এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত উপস্থিতি ও সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।













