মর্গে নেই জায়গা, নিখোঁজ প্রায় ২,০০০! প্রিয়জনকে খুঁজতে QR Code চালু নেপালে

Published on:

Published on:

Police in flash-flood-ravaged Nepal have launched a QR code system to help locate missing loved ones.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালের (Nepal) ভয়াবহ হড়পা বানের (Nepal Flash Floods) পর পরিস্থিতি ক্রমশ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। একের পর এক এলাকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ, অথচ এখনও বহু মানুষের কোনও সন্ধান নেই। মৃতের সংখ্যা ৬০০-র কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ২,০০০ হওয়ায় প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেহ সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণ। ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় একাধিক জেলার হাসপাতাল ও মর্গে জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই হাসপাতালের নির্দিষ্ট মর্গে জায়গা না থাকায় মৃতদেহ অন্যত্র সরিয়ে অস্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করতে হচ্ছে।

হড়পা বান বিধ্বস্ত নেপালে (Nepal) প্রিয়জনকে খুঁজতে QR Code চালু করল পুলিশ

এই পরিস্থিতির ভয়াবহতা সবচেয়ে স্পষ্ট চিতওয়ান ও ভরতপুরের মতো এলাকায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ হাসপাতালের মর্গে যেখানে ৩০ থেকে ৫০টি দেহ রাখার মতো পরিকাঠামো রয়েছে, সেখানে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত শুধু চিতওয়ানেই ১৩৭টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ফলে ভরতপুরে একটি সরকারি ভবনকে অস্থায়ী মর্গ হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ২৫০টি দেহ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ দেহ সংরক্ষণ করতে এয়ার কন্ডিশনিং এবং ড্রাই আইস ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে দেবঘাটের বৈদ্যুতিক শ্মশানঘাটকেও অস্থায়ী সংরক্ষণস্থল হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলিতেও নিখোঁজদের পরিবারের ভিড় বাড়ছে। হাতে প্রিয়জনের ছবি নিয়ে তাঁরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন।

আরও পড়ুন: বন্দে ভারতের সাশ্রয়ী সংষ্করণ, কম খরচে এবার প্রিমিয়াম পরিষেবা অমৃত ভারতেই

মৃতদেহ শনাক্ত করার এই কঠিন কাজকে সহজ করতে এবার প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে নেপাল সরকার। কাসকি জেলায় পুলিশ উদ্ধার হওয়া প্রতিটি অজ্ঞাতপরিচয় দেহের ছবি তোলার পাশাপাশি আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করছে। ময়নাতদন্তের সময় নেওয়া হচ্ছে ডিএনএ নমুনাও। শুধু তাই নয়, মৃতদেহের সঙ্গে পাওয়া পোশাক, ব্যাগ, নথি বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রীরও ছবি ও বিবরণ নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার নবীন কার্কির বক্তব্য অনুযায়ী, এই তথ্যগুলি একটি নির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে কোনও পরিবার হাসপাতালে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা না করেও অনলাইনে প্রাথমিক তথ্য দেখে নিখোঁজ আত্মীয়কে শনাক্ত করার চেষ্টা করতে পারবে।

নেপাল পুলিশ ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া মৃতদেহ এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তালিকায় মৃতদের ছবি, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিবরণ যুক্ত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হল, বিপর্যয়ের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা তথ্যগুলিকে একটি জায়গায় এনে পরিবারের সদস্যদের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া। বিশেষ করে যেসব দেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে ছবি, আঙুলের ছাপ এবং ডিএনএ-র মতো তথ্য ভবিষ্যতে শনাক্তকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় এই প্রক্রিয়াকে দ্রুত এবং নির্ভুল করার উপরই এখন প্রশাসনের জোর।

Police in flash-flood-ravaged Nepal have launched a QR code system to help locate missing loved ones.

আরও পড়ুন: ইচ্ছা থাকলেও গ্রান্ট ইন এইড-দের বকেয়া DA দিতে পারছে না সরকার! চূড়ান্ত সমস্যা সার্ভিস রেকর্ড নিয়ে

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল QR Code প্রযুক্তির ব্যবহার। নেপাল (Nepal) পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে প্রকাশিত তালিকার সঙ্গে QR Code যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। মোবাইল ফোন দিয়ে কোড স্ক্যান করলেই সংশ্লিষ্ট মৃতদেহের ছবি ও উপলব্ধ তথ্য দেখার সুযোগ মিলছে। ভয়াবহ বন্যার মধ্যে বহু পরিবার এখনও প্রিয়জনের খোঁজে রয়েছেন। তাঁদের জন্য এই ডিজিটাল ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হতে পারে। তবে বিপুল সংখ্যক নিখোঁজ মানুষের কারণে উদ্ধার ও শনাক্তকরণের কাজ এখনও অত্যন্ত জটিল। মৃতের সংখ্যা এবং নিখোঁজের হিসাব ক্রমাগত বদলাচ্ছে। তাই প্রযুক্তির পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ই নেপালের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর পরিবারগুলিকে প্রিয়জনের খোঁজ দিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নেবে।