বাংলাহান্ট ডেস্ক: একসময় দেশের (India) অন্যতম পরিচিত শিল্পপতি হিসেবে উঠে এসেছিল ডঃ সুভাষ চন্দ্রের (Subhash Chandra) নাম। এসেল গ্রুপের একাধিক ব্যবসা থেকে বিপুল অর্থের প্রবাহ, আর জি গ্রুপের (Zee Group) হাত ধরে দেশের মিডিয়া জগতে শক্তিশালী অবস্থান— সব মিলিয়ে ডঃ সুভাষ চন্দ্রের উত্থানের গল্প ছিল বেশ চমকপ্রদ। রাজনীতির ময়দানেও পা রেখেছিলেন তিনি, হয়েছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ছবিটাই যেন পুরো বদলে গিয়েছে। একাধিক সংস্থার বিপুল ঋণের দায়, ব্যবসায়িক ধাক্কা এবং সম্পত্তি হারানোর পর এখন নিজের জীবনযাপনের খরচ চালাতেও তাঁকে নির্ভর করতে হচ্ছে বাড়ি ভাড়ার আয়ের উপর। এমনকি পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দিতে এবার বিদেশে গিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করার পরিকল্পনাও করছেন তিনি।
সব হারিয়ে এবার কাজের খোঁজে বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা সুভাষ চন্দ্রের (Subhash Chandra):
সম্প্রতি ন্যাশনাল কোম্পানি ল’ ট্রাইব্যুনালের একটি সিদ্ধান্তে সুভাষ চন্দ্রের সামনে কিছুটা স্বস্তির রাস্তা খুলেছে। তাঁর বিভিন্ন সংস্থার নামে মোট প্রায় ২২ হাজার ৬ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ঋণ পরিশোধে সংস্থাগুলি ব্যর্থ হওয়ায় ব্যক্তিগত ভাবে গ্যারান্টারের ভূমিকা পালন করা সুভাষ চন্দ্রও দায়ের মধ্যে পড়েছিলেন। তবে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা পরিশোধ করলেই ওই দায় থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর। বিপুল অঙ্কের ঋণের তুলনায় এই পরিমাণ অনেকটাই কম হওয়ায় সিদ্ধান্তটি তাঁর জন্য বড় আর্থিক স্বস্তি বলেই মনে করা হচ্ছে। যদিও এর পরও তাঁর ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি যে কঠিন, তা তিনি নিজেই জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: মর্গে নেই জায়গা, নিখোঁজ প্রায় ২,০০০! প্রিয়জনকে খুঁজতে QR Code চালু নেপালে
সুভাষ চন্দ্রের দাবি, তাঁর হাতে এখন কার্যত আর বড় কোনও সম্পদ নেই। যে সাড়ে ৬ কোটি টাকা রয়েছে, সেটিও ঋণ মেটাতে চলে যাবে। নিজের থাকার জন্য একটি ছোট আবাসিক সম্পত্তি রয়েছে তাঁর। সেই বাড়িরই একটি অংশ ভাড়া দিয়ে আপাতত সংসারের খরচ চালাচ্ছেন তিনি। অর্থাৎ একসময় যে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য থেকে বিপুল সম্পদ তৈরি হয়েছিল, আজ তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির ফারাক অনেকটাই। তবে নিজের এই অবস্থাকে ব্যর্থতার শেষ অধ্যায় হিসেবে দেখতে নারাজ সুভাষ চন্দ্র। তাঁর কথায়, জীবনে ব্যবসা ও বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন করে শুরু করার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। তাই সামনে কী রয়েছে, তা নিয়ে হতাশ না হয়ে ফের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এই নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই আপাতত সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার কথা ভাবছেন জি মিডিয়ার প্রাক্তন কর্ণধার। সেখানে এক বন্ধুর সঙ্গে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কিছু কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। প্রয়োজন হলে পরিবারের কাছ থেকেও কয়েক কোটি টাকা ধার নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নতুন করে কাজ শুরু করতে হলে প্রাথমিক পুঁজি জোগাড় করতেই হবে। ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ফের সম্পদ তৈরি করতে চান তিনি। অর্থাৎ পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা থেকে সরে আসছেন না সুভাষ চন্দ্র।

আরও পড়ুন: মধ্য এশিয়ায় মোদির ‘মিশন’, উজবেকিস্তান-কিরগিজস্তানে চারদিনের সফর প্রধানমন্ত্রীর
নিজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সুভাষ চন্দ্রের (Subhash Chandra) বার্তাও বেশ স্পষ্ট, অতীতের সাফল্য বা বর্তমানের আর্থিক ধাক্কা, কোনওটাকেই তিনি শেষ কথা বলে মনে করছেন না। তাঁর বিশ্বাস, নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজে বের করা এবং সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করার অভিজ্ঞতা এখনও তাঁর রয়েছে। তাই ঋণের বোঝা ও সম্পত্তি হারানোর পরেও আবার স্বচ্ছল জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। সুইজারল্যান্ডে সম্ভাব্য কাজ থেকে শুরু করে নতুন বিনিয়োগ। আগামী দিনে সেই পরিকল্পনা কতটা বাস্তব রূপ পায়, এখন সেদিকেই নজর। তবে সুভাষ চন্দ্রের নিজের কথায়, এই পর্যায় তাঁর জন্য থেমে যাওয়ার নয়; বরং আরও একবার শূন্য থেকে শুরু করার সময়।













