বাংলাহান্ট ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের সময়ে চিনা (China) সেনার গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছিলেন জেনারেল জাও জংকিক (Zhao Zongqi)। ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষের সময় চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ডোকলাম পর্বেও চিনা সেনার নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে ছিল। সেই প্রভাবশালী সামরিক আধিকারিককেই এবার চিনের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর। ফলে বেজিংয়ের অন্দরমহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া এক জেনারেলের এমন পরিণতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
চিনে (China) জিনপিংয়ের কোপে গালওয়ান সংঘাতে নেতৃত্ব দেওয়া সেনা আধিকারিক
জানা গিয়েছে, ২৬ অগস্ট চিনের (China) সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থায় একটি ভোটাভুটি হয়। সেই প্রক্রিয়ার পর জংকিককে কমিটির সদস্যপদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু এই পদই নয়, আরও দু’টি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকেও তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। তবে কেন এই পদক্ষেপ, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি বেজিং। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে আচমকা এই অপসারণের নেপথ্যে ঠিক কী রয়েছে, তা নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
আরও পড়ুন: মর্গে নেই জায়গা, নিখোঁজ প্রায় ২,০০০! প্রিয়জনকে খুঁজতে QR Code চালু নেপালে
গত কয়েক বছর ধরেই চিনের সামরিক বাহিনীর শীর্ষস্তরে একের পর এক রদবদল চলছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিঙের আমলে সেনাবাহিনীতে দুর্নীতি, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আরও দুই প্রভাবশালী সেনাকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর। এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই জংকিকের অপসারণকে দেখছেন অনেকে। যদিও তাঁর ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের কথা এখনও জানায়নি চিন সরকার।
জংকিককে সরানোর ঘটনায় চিনের সামরিক কাঠামোয় জিনপিঙের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, চিনা প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিনের বা পুরনো প্রভাবশালী সামরিক আধিকারিকদের সরিয়ে নিজের অনুগত নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে পিএলএ-র গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে জিনপিঙের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হচ্ছে। তবে চিনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও জংকিকের অপসারণের সঙ্গে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক বিরোধ বা ক্ষমতার দ্বন্দ্বের যোগ রয়েছে— এমন কোনও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।

আরও পড়ুন: মধ্য এশিয়ায় মোদির ‘মিশন’, উজবেকিস্তান-কিরগিজস্তানে চারদিনের সফর প্রধানমন্ত্রীর
সবচেয়ে বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের সময় চিনা সামরিক নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়া। গালওয়ান সংঘর্ষের পর ভারত-চিন (China) সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সেই সময় চিনের পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন জংকিক। তাই তাঁর বর্তমান অবস্থান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই নজর রয়েছে নয়াদিল্লিরও। আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ বা তদন্তের বিষয়ে বেজিং নীরব। ফলে এটি নিয়মিত প্রশাসনিক রদবদল, নাকি জিনপিংয়ের চলমান সামরিক পুনর্গঠনের আরও একটি বড় পদক্ষেপ— সেই প্রশ্নের উত্তরই এখন খুঁজছেন কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।













