বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্য বাসীর কাছে অত্যন্ত পবিত্র একটি আস্থার স্থল হল মায়াপুর (Mayapur)। এবার মায়াপুরগামী যাত্রীদের সুবিধার্থে নদী পথে যাতায়াতের জন্য এক বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। জানা যাচ্ছে মূলত ধর্মীয় এবং ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে নদীপথে এবার পর্যটনকে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের তরফে কলকাতার বাবুঘাটের সঙ্গে মায়াপুরকে সংযোগকারী হুগলি নদীতে আগামীদিনে দু-দুটি যাত্রীবাহী হাইব্রিড ইলেকট্রিক ফেরি (Hybrid Electric Ferry Service) চালু করা হবে।
জলপথে সংযুক্ত হবে বাবুঘাট থেকে মায়াপুর
শনিবার রাজ্য সরকারের তরফে এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি জনিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই জলপথটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটকরা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে জড়িত স্থানগুলির পাশাপাশি নদী তীরবর্তী বিশিষ্ট ধর্মীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখতে পারবেন।
পর্যটন মন্ত্রীর কথায়, “আমরা জলপথ পর্যটন কেন্দ্র গুলির মধ্যে স্বাধীনতা উওর ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য বিখ্যাত এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে চাই। এছাড়াও, আমরা নদী তীরের বেলুড় মঠ এবং দক্ষিণেশ্বরের মতো ধর্মীয় স্থানগুলোকে সংযুক্ত করতেও জলপথ পর্যটন ব্যবহার করব।”
আরও পড়ুনঃ ‘মা তারার আশীর্বাদে তৈরি সরকার’, তারাপীঠে পুজো দিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
মূলত টেকসই পরিকাঠামো, পরিবেশবান্ধব পরিবহন এবং পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের কথা ভেবেই আগামী দিনে জলপথে হুগলির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে কাজে লাগিয়ে একটি বিশেষ পর্যটন সার্কিট তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে রাজ্য সরকারের।
জানা যাচ্ছে এক্ষেত্রে গণ পরিবহণেরর (Passenger Vessel) এই প্রস্তাবিত রুটটি দক্ষিণেশ্বর, বেলুড় মঠ, হংসেশ্বরী মন্দির এবং ব্যারাকপুরের অন্নপূর্ণা মন্দিরের মতো তীর্থস্থানগুলিকে ঘিরে তৈরি হবে। পর্যটন মন্ত্রী বললেন, “এটি ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর এবং ব্যান্ডেল জুড়ে বিস্তৃত গঙ্গার তীরের ঐতিহাসিক ‘লিটল ইউরোপ’ অংশটিকেও তুলে ধরবে, যা আমাদের সমৃদ্ধশালী ঔপনিবেশিক ঐতিহ্য এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসকে তুলে ধরে।”
উল্লেখ্য আগামী দিনে রাজ্য ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর এবং হুগলির মতো পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। WBTDCL-এর সহযোগিতায় কলকাতা, ব্যারাকপুর, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হুগলি, অম্বিকা কালনা, মাটিয়ারা, নদীয়া এবং বরানগরে নতুন জেটি তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, পশ্চিমবঙ্গের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়ে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও বেশি চাঙ্গা করে তুলতে আগামী দিনে এমন একটি আধুনিক, পরিবেশ-বান্ধব, সুশৃঙ্খল ও বিশ্বমানের পর্যটন পরিমণ্ডল তৈরি করতে চলেছে রাজ্য। সবশেষে পর্যটন মন্ত্রী জানালেন,’আশা করি এটি প্রথম পবিত্র পদক্ষেপ, যা হুগলি নদী বরাবর একটি সম্পূর্ণ বিকশিত নদী পর্যটনের দিকে নিয়ে যাবে।













