মর্গে নেই জায়গা, নেপালে গণসৎকারের প্রস্তুতি! জিয়োট্যাগিংয়ে থাকবে মৃতদেহের ঠিকানা

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালের (Nepal) ভয়াবহ বন্যা ও কাদাস্রোতের (Nepal Flash Floods) পর পরিস্থিতি ক্রমেই আরও কঠিন হয়ে উঠছে। একদিকে চলছে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি, অন্যদিকে মর্গগুলিতে মৃতদেহ রাখার জায়গাও প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মৃতদেহগুলির গণসৎকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন। তবে পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে দেহ শনাক্ত করতে চাইলে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে বিষয়টিও মাথায় রাখা হচ্ছে। তাই গণসৎকারের আগে প্রতিটি দেহের ছবি তোলা, ভিডিয়ো রেকর্ড করা এবং ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মর্গে নেই জায়গা, নেপালে (Nepal) গণসৎকারের প্রস্তুতি

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি মৃতদেহের জন্য আলাদা একটি পরিচয় বা রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হবে। দেহ যে ব্যাগে রাখা হবে, তার গায়েও থাকবে সেই ইউনিক নম্বর। পাশাপাশি কোথায় কোন দেহের সৎকার করা হল, তার সঠিক অবস্থান সংরক্ষণ করতে জিয়োট্যাগিংয়ের সাহায্য নেওয়া হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে কোনও পরিবারের সদস্য নিখোঁজ আত্মীয়ের খোঁজে এলে প্রশাসন যাতে নির্দিষ্ট জায়গাটি সহজেই চিহ্নিত করতে পারে, সেই অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়াটি নথিবদ্ধ করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের তরফে শনাক্ত করা যায়নি এমন মৃতদেহগুলির তথ্য ইতিমধ্যেই একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী মোদী পেলেন উজবেকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান! ইউরেনিয়াম সরবরাহ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি

গণসৎকারের জন্য কবর তৈরির ক্ষেত্রেও বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় প্রায় দেড় মিটার গভীর করে কবর খোঁড়ার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি দুটি কবরের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য, ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কোনও দেহ শনাক্ত হলে সেটি আলাদা করে বের করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনও জটিলতা না হয়। প্রতিটি কবরের জায়গা চিহ্নিত করতে কংক্রিটের ফলক ও সাইনবোর্ডও বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। ফলে গণসৎকার হলেও মৃতদের পরিচয় ও অবস্থান যাতে সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে না যায়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

এই বিপর্যয়ে মৃতদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকও থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কিন্তু ভয়াবহ বন্যা, কাদাস্রোত এবং ধ্বংসস্তূপের কারণে বহু দেহের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই কোনও দেহ দ্রুত সৎকার করে ফেলার বদলে আগে তার সম্পর্কে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তোলা এবং ভিডিয়ো করার পাশাপাশি ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ কোনও ব্যক্তির পরিবারের কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা পাওয়া গেলে তা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করার সুযোগ থাকবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত মৃতদের প্রতি সম্মান বজায় রাখার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের কাছে ভবিষ্যতে সত্যিটা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা।

No space in the morgue; preparations for mass cremation in Nepal.

আরও পড়ুন: সাড়ে ৩ দশক পর ভূস্বর্গে ফের রাম মন্দির! ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

এদিকে, ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নেপালে (Nepal) নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে প্রায় ২,৪২৬ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলির সামনে একদিকে যেমন জীবিতদের খুঁজে বের করার চাপ রয়েছে, তেমনই নিখোঁজদের পরিণতি জানার অপেক্ষায় রয়েছেন হাজার হাজার পরিবার। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে আরও মৃতদেহ। এই পরিস্থিতিতে সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যে মৃতদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব না হওয়ায় গণসৎকারের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন। তবে ছবি, ভিডিয়ো, ডিএনএ, ইউনিক নম্বর এবং জিয়োট্যাগিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি দেহের একটি পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রেখে দেওয়ার উদ্যোগ ভবিষ্যতে নিখোঁজদের পরিচয় নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।