বাংলাহান্ট ডেস্ক: দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটানোর পর কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) কাছে যেন নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) সোপিয়ানে পুরনো রাম মন্দিরের জায়গাতেই নতুন করে মন্দির নির্মাণের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। শনিবার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপস্থিত ছিলেন। হোম-যজ্ঞ এবং অন্যান্য ধর্মীয় রীতিনীতির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই নতুন পথচলা। তাঁদের কাছে এই উদ্যোগ শুধু একটি মন্দির তৈরির ঘটনা নয়, বরং বহু বছর ধরে হারিয়ে থাকা শিকড়ের সঙ্গে ফের সম্পর্ক স্থাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
সোপিয়ানে রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা (Kashmiri Pandits):
যে জায়গায় নতুন মন্দিরটি তৈরি হতে চলেছে, সেই জমির সঙ্গে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) ইতিহাস ও আবেগ গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে সেখানে একটি প্রাচীন রাম মন্দির ছিল। কিন্তু উপত্যকায় সশস্ত্র জঙ্গি কার্যকলাপ বাড়তে শুরু করার পর সেই মন্দিরটি হামলার মুখে পড়ে। অভিযোগ, একসময় মন্দিরটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জমিটি দখলও হয়ে যায়। ফলে জায়গাটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থানের স্মৃতি বহন করে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা, বাস্তুচ্যুতি এবং নিজেদের পুরনো পরিচয়ের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ইতিহাসও।
আরও পড়ুন: ‘মন কি বাত’-এ মাদকমুক্ত ভারত গড়ার ডাক মোদীর! তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে দিলেন বিশেষ বার্তা
এবার সেই পুরনো স্মৃতিকে সামনে রেখেই সোপিয়ানে নতুন করে মন্দির তৈরির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ দপ্তরের তরফে ‘হেরিটেজ সংরক্ষণ’ প্রকল্পের অধীনে এই কাজের জন্য অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে। সেই অর্থের সাহায্যেই মন্দির নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগোনোর পাশাপাশি শনিবারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রকল্পটি কার্যত নতুন গতি পেয়েছে। দীর্ঘ সময় পর পুরনো ধর্মীয় স্থানের পুনর্গঠনের উদ্যোগে স্বাভাবিকভাবেই খুশি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের একাংশ।
এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় স্তরেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, কাশ্মীরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও সামাজিক পরিসরের সঙ্গে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের সম্পর্ক বহু পুরনো। তাই তাঁদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত কোনও স্থানের পুনর্গঠন কেবল একটি সম্প্রদায়ের বিষয় হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি উপত্যকার বহুমাত্রিক ইতিহাসকে সংরক্ষণের একটি প্রচেষ্টা। তাঁদের মতে, বহু পুরনো একটি স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে এই মন্দির নির্মাণের মাধ্যমে। ফলে প্রকল্পটি ঘিরে ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি সামাজিক তাৎপর্যও রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিনা পাইলটে উড়ে শায়েস্তা করবে শত্রুদের! ভারতের শক্তি বাড়াবে অত্যাধুনিক ফাইটার জেট
কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandits) কাছেও এই মন্দিরের আলাদা আবেগ রয়েছে। তাঁদের কথায়, সোপিয়ানে নতুন করে রাম মন্দির তৈরি হওয়া মানে শুধু ইট-পাথরের একটি স্থাপনা গড়ে তোলা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতি এবং উপত্যকার সঙ্গে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্ককে ফের জোড়ার আকাঙ্ক্ষা। বহু বছর ধরে বাস্তুচ্যুত থাকার পর নিজেদের ঐতিহ্যের সঙ্গে ফের সংযোগ তৈরি করার এই উদ্যোগ তাঁদের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সেই কারণেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিনটি কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘ অস্থিরতার একটি অধ্যায় পেরিয়ে সোপিয়ানে নতুন রাম মন্দির নির্মাণের সূচনা তাই তাঁদের কাছে একইসঙ্গে আবেগ, ঐতিহ্য এবং নতুন আশার প্রতীক।













