বাংলা হান্ট ডেস্ক : নন্দীগ্রামের উন্নয়নকে সামনে রেখে একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। রেয়াপাড়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিয়ে এলাকার পরিকাঠামো, আবাসন, স্বাস্থ্য এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে একগুচ্ছ প্রকল্পের কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে প্রশাসনের কাজের অগ্রগতির পর্যালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রামের জন্য কী ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari)?
নন্দীগ্রামের রাস্তা উন্নয়নের প্রসঙ্গে সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই ৩২টি রাস্তার নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনটা নন্দীগ্রামের কাছে গুরুত্বপূর্ণ দিন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন এবারও। এবং আমি এই সাড়ে তিন মাস রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এই সাড়ে তিন মাস বা চার মাসের কাছাকাছি ১১০-১১২ বা ১১৪ দিন একটা সরকারের কাছে তেমন কিছু দিন নয়। ১৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে তৈরি হওয়া গ্রামীণ এলাকা নন্দীগ্রামে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হল।”
সভা থেকে কর্মসংস্থান এবং আবাসন নিয়েও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১২৫ দিনের কাজের সূচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোর পাশাপাশি চলতি বছরে নন্দীগ্রামে ১১ হাজার ৭০০টি নতুন বাড়ি তৈরির পরিকল্পনাও জানিয়েছেন তিনি। এদিন মহিলাদের আর্থিক সহায়তার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রামের ৬৭ হাজার মহিলার অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে মাসে ৩ হাজার টাকা করে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। আরও ৫ হাজার মহিলার যাচাই প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নন্দীগ্রামের জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “আগের বিতাড়িত ও পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর আমলে ভুয়ো স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড ছিল। ১৭০০ হাসপাতালে সুযোগ পেত বাংলায়। আমাদের আয়ুষ্মান, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা ১৯০০ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সুযোগ তো পাবেনই। ইতিমধ্যেই ১৬ হাজার ৮০০ জন উপকৃত হয়েছেন।”

আরও পড়ুন : চলতি মাসেই চালু হয়েছে! আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে এবার বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নন্দীগ্রাম-হলদিয়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য প্রস্তাবিত সেতুর কাজও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে আগের সরকারকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “২০২১-এ হেরে গিয়েছিলেন বলে নন্দীগ্রামের রেল আটকে রেখেছিলেন। মাত্র ছয় একর জায়গা। আমরা ইতিমধ্যেই সাড়ে তিন একর জায়গা রেলকে দিয়ে দিয়েছি। বাকিটাও দিয়ে দেব।” সবশেষে আগামী নির্বাচনে তাঁকে আরও বেশি ভোটে জয়ী করার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে নন্দীগ্রামকে ভবিষ্যতেও সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখার আশ্বাস দেন।













