বাংলা হান্ট ডেস্কঃ পুজোর পরেই রাজ্যে পুরভোট (Municipal Election) হতে পারে। কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবার সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে কমিশন। ভোটের আগে কোথায় কী প্রস্তুতি রয়েছে, ইভিএমের কী অবস্থা—সব কিছু নিয়েই আলোচনা হবে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলও।
Municipal Election : ২০৯ ওয়ার্ডে প্রার্থী দেবে ঋতব্রতর দল
কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ডের সংখ্যা আগেই বাড়ানো হয়েছে। আগে যেখানে ১৪৪টি ওয়ার্ড ছিল, এখন তা বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ নতুন করে ৬৫টি ওয়ার্ড তৈরি হয়েছে। হাওড়াতেও ওয়ার্ডের সংখ্যা ৫০ থেকে বেড়ে ৬৮ হয়েছে। ফলে কলকাতা ও হাওড়ায় এবার নতুন ওয়ার্ডের হিসাবেই ভোট (Municipal Election) হওয়ার কথা।
এই নতুন ওয়ার্ড নিয়েই এবার প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূল জানিয়েছে, কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডেই বিজেপির বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়া হবে। হাওড়া-সহ রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাতেও প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরভোটের (Municipal Election) রণকৌশল ঠিক করতে সপ্তাহের শেষে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বৈঠক হবে। এ নিয়ে বিধানসভায় ফিরহাদ হাকিম ও জাভেদ খানের সঙ্গেও কথা বলেছেন ঋতব্রত।
৫ সেপ্টেম্বর থেকে পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে গণশুনানি শুরু হচ্ছে। সেখানে দলের প্রতিনিধিরা কী তথ্য ও মানচিত্র নিয়ে যাবেন, তার গাইডলাইনও ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতিদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুরসভার সর্বদলীয় বৈঠকেও ডিলিমিটেশন নিয়ে দলের আপত্তির কথা জানিয়ে এসেছে ‘আসল’ তৃণমূল।
ইভিএম নিয়ে সমস্যা, হাই কোর্টে কমিশন
পুরভোটের (Municipal Election) প্রস্তুতির মধ্যেই ইভিএম নিয়ে সমস্যায় পড়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। পর্যাপ্ত ইভিএম নেই বলে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার মামলাটি দ্রুত শুনতে আবেদন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হতে পারে।
কমিশনের বক্তব্য, হাই কোর্টে একাধিক ইলেকশন পিটিশনের মামলা এখনও চলছে। সেই মামলাগুলিতে বিভিন্ন কেন্দ্রের ইভিএম, ভিভিপ্যাট-সহ অন্যান্য ভোটের সামগ্রী সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে পুরভোটের জন্য পর্যাপ্ত ইভিএম পাওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। এই কারণে ভোটের দিন ঘোষণা করতেও দেরি হতে পারে।
এর পাশাপাশি এসআইআরে যাঁদের আবেদন এখনও ট্রাইবুন্যালে আটকে রয়েছে, তাঁদের নাম পুজোর আগেই ভোটার তালিকায় তোলার দাবি জানিয়েছে ঋতব্রত শিবির। এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেও যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ‘আসল’ তৃণমূল। দলের ঘনিষ্ঠদের দাবি, পুরভোটের (Municipal Election) আগেই দলের প্রতীক ও তহবিল নিয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে পারে। তাতে প্রার্থীদের ভোটে লড়তে সুবিধা হবে।

আরও পড়ুনঃ বেতন বাড়ার সঙ্গে মোটা এরিয়ার, অষ্টম পে কমিশনে ১৪ লাখ পর্যন্ত পেতে পারেন কর্মীরা
এর মধ্যেই ঋজু দত্তকে দলের জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিজেপিও পুরভোটের (Municipal Election) জন্য নির্বাচনী কমিটি তৈরি করে প্রস্তুতি শুরু করেছে। সব মিলিয়ে পুজোর আগেই পুরভোটের প্রস্তুতিতে রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা বাড়ছে। এখন নজর কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইভিএম সমস্যার সমাধানের দিকে।













