বাংলায় রেলের বড় প্রকল্প! ২৭২ কোটিতে ১১ কিমির বাইপাস লাইন, কমবে যানযট

Published on:

Published on:

Indian Railways' 272 crore rupees project in West Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রেলপথে পণ্য পরিবহণের চাপ কমাতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন পরিকাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ আদ্রা-জয়চণ্ডী পাহাড় রুটে তৈরি হতে চলেছে পৃথক বাইপাস লাইন। ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের জন্য ২৭২ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।

ভারতীয় রেলের (Indian Railways) নয়া প্রকল্প

রেলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন লাইনটি মূলত মালগাড়ি চলাচলের কাজে ব্যবহার করা হবে। ফলে পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য আলাদা রুট তৈরি হয়ে যাবে এবং বিদ্যমান লাইনে যাত্রীবাহী ও অন্যান্য ট্রেনের উপর চাপ কিছুটা কমবে। এর জেরে গোটা রুটে ট্রেন চলাচল আরও স্বাভাবিক ও মসৃণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আদ্রা থেকে জয়চণ্ডী পাহাড় পর্যন্ত প্রস্তাবিত এই বাইপাসকে রেলের ‘জ্বালানি, খনিজ ও সিমেন্ট করিডর’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

শিল্পের কাজে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য পরিবহণে এই করিডর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছে রেল। বিশেষ করে খনিজ, জ্বালানি এবং সিমেন্টের মতো পণ্য দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থাটি কার্যকর হতে পারে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ক্ষেত্রে পণ্যবাহী ট্রেনের আধিক্যের কারণে রেলপথে চাপ তৈরি হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সেই সমস্যা মোকাবিলাতেই এবার মালগাড়ির জন্য পৃথক পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ।

নতুন বাইপাস চালু হলে আদ্রা-জয়চণ্ডী পাহাড় অংশে পণ্য পরিবহণের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি রুটটির উপর চাপও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে আশা রেলের। শিল্পক্ষেত্রে পণ্য পরিবহণের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। সেই বাড়তি চাপ সামলানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

রেলের মতে, নির্দিষ্ট করিডর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহণের সুযোগ তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় শিল্পের প্রসারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই রেলপথ আরও নির্ভরযোগ্য হয়ে উঠবে। এদিকে রেল সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণেও বড় পদক্ষেপ করা হয়েছে। পূর্ব-মধ্য রেলের সমষ্টিপুর ডিভিশনের ২১টি স্টেশনে এবার প্যানেল ইন্টারলকিংয়ের বদলে বসানো হবে ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং ব্যবস্থা। এই কাজের জন্য ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

Indian Railways' 272 crore rupees project in West Bengal

আরও পড়ুন : রেশন কার্ডে নাম-ঠিকানা থেকে শুরু করে একাধিক তথ্য বদলানো সম্ভব! কী কী পরিবর্তন করবেন

আধুনিক এই প্রযুক্তি চালু হলে স্টেশনগুলির সিগন্যালিং ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে বলে জানিয়েছে রেল। ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে ‘কবচ’ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এই পরিকাঠামো সহায়ক হবে। একদিকে পণ্যবাহী ট্রেনের জন্য পৃথক বাইপাস, অন্যদিকে স্টেশনগুলিতে আধুনিক সিগন্যালিং—পরপর এই দুই প্রকল্পের মাধ্যমে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পণ্য পরিবহণের গতি বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল এবং রেল নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদে সুবিধা মিলতে পারে।