হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা অন্তত ১,২২৫! সাহায্যের পরিবর্তে আমেরিকা-ভারত-চিন থেকে ক্ষতিপূরণ চায় নেপাল

Published on:

Published on:

Flash floods devastated Nepal seeks compensation from the US-India-China.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: নেপালে (Nepal) ভোটেকোশী নদীর ভয়াবহ হড়পা বানের পর কেটে গিয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ। কিন্তু নেপালের বিপর্যস্ত (Nepal Flash Floods) এলাকাগুলিতে এখনও থামেনি উদ্ধারকাজ। কাদামাটি ও ধ্বংসস্তূপ সরাতেই একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে পচাগলা দেহ। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১২০৪ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। এর মধ্যে চিতওয়ান থেকেই মিলেছে সবচেয়ে বেশি দেহ—৩৪৮টি। নওয়ালপারাসি পূর্বে ২১৭, নওয়ালপারাসি পশ্চিমে ২০২, নুয়াকোটে ১৫৫ এবং রাসুয়ায় ১১৫টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৯৫টি দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, চিনের সংবাদমাধ্যমের দাবি, তিব্বতেও ২১ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১২২৫-এ।

হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল (Nepal) সাহায্যের পরিবর্তে আমেরিকা-ভারত-চিন থেকে ক্ষতিপূরণ চায়:

এই বিপর্যয়ের পর পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা নিখোঁজের পরিসংখ্যানেও স্পষ্ট। নেপালের প্রশাসন জানিয়েছে, ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুর্গত এলাকা থেকে ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে দিনরাত মোতায়েন রয়েছেন ২১ হাজার ৩১৪ জন নিরাপত্তাকর্মী। তবু এখনও ৪২১৬ জনের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। তিব্বতের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। সেখানে ২১ জনের মৃত্যুর খবরের পাশাপাশি ৫৪১ জন এখনও নিখোঁজ বলে জানিয়েছে চিনের সংবাদমাধ্যম। নেপালে বুধবার আরও তিন জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৬৬ জন ভারতীয়কে নেপাল থেকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ৩৭ জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি, যা তাঁদের পরিবারগুলির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে (Nepal)।

আরও পড়ুন: ‘সর্বদা হৃদয়ে রাজ করবেন’, মহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মোদী

এর মধ্যেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের জন্য বিশ্বের তিন বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ, ভারত, চিন এবং আমেরিকাকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণের দাবি তুলেছে নেপাল। কাঠমান্ডুর বক্তব্য, বিপুল গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের কারণে পৃথিবীর উষ্ণতা বাড়ছে এবং তার প্রভাব পড়ছে হিমালয় অঞ্চলের মতো ভঙ্গুর পরিবেশে। সেই কারণেই বিপর্যয়ের পর নেপালকে যে পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়েছে, তার জন্য ওই দেশগুলির কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চায় তারা। বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরেও তোলার প্রস্তুতি চলছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় এই প্রসঙ্গ তুলতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। বিদেশমন্ত্রী শিশির খনাল জানিয়েছেন, নেপাল কোনও দয়া বা অনুদান চাইছে না; তারা এই দাবিকে ন্যায়বিচার এবং নৈতিক ও আইনগত দায়বদ্ধতার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে।

তবে একদিকে ক্ষতিপূরণের দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও অন্যদিকে বিপর্যস্ত নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। প্রাথমিকভাবে বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে দেশে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার কথা জানালেও পরে নেপাল সেই অবস্থান বদলায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানিয়েছেন, বুধবার নয়াদিল্লি থেকে ত্রাণ নিয়ে পঞ্চম বিমান নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। সেই বিমানে প্রায় সাড়ে ৫ টন ওষুধ রয়েছে। পাশাপাশি ১১ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দলও সেখানে পাঠানো হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ভারত মোট ৭৪ টন ত্রাণ নেপালে পাঠিয়েছে। মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করতেও সাহায্য করছে ভারত। এ জন্য পাঠানো ফরেনসিক দল কাঠমান্ডুর দু’টি গবেষণাগারে উদ্ধার হওয়া দেহ থেকে সংগৃহীত ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করছে।

Flash floods devastated Nepal seeks compensation from the US-India-China.

আরও পড়ুন: বিনামূল্যে রেশন অতীত! এইসব কারণে বাতিল হতে পারে রেশন কার্ড, আপনারটা থাকবে তো?

নেপালে (Nepal) ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চলার পাশাপাশি তিব্বতে আটকে পড়া ভারতীয়দেরও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে নয়াদিল্লি। বুধবার তিব্বতে থাকা ৪১০ জন ভারতীয় চিন থেকে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ তীর্থযাত্রায়, আবার কেউ বেড়াতে গিয়ে সেখানে আটকে পড়েছিলেন। নেপালের পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত ছাড়াও চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে। কিন্তু বিপর্যয়ের এক সপ্তাহ পরেও বিপুল সংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্বেগ কাটছে না। ধ্বংসস্তূপ আর কাদার নীচে এখনও বহু মানুষের সন্ধান মিলতে পারে বলে মনে করছেন উদ্ধারকারীরা। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই জোরকদমে চলছে উদ্ধার ও পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং এর দায় কার—তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।