বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোশাল মিডিয়ায় আত্মপ্রকাশের চার মাসও কাটেনি, তার মধ্যেই ভাঙনের মুখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party) বা সিজেপি। নিট প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলন থেকে উঠে আসা এই সংগঠনের অন্যতম পরিচিত মুখ মণীশ ব্রহ্মভট্ট (Manish Brahmbhatt) এবার আলাদা সংগঠন তৈরির ঘোষণা করেছেন। তাঁর নতুন দলের নাম ‘ককরোচ জনতা পার্টি ডেমোক্রেটিক’। বৃহস্পতিবার এই নতুন রাজনৈতিক মঞ্চের কথা ঘোষণা করে মণীশ সিজেপির বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, যে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির জন্ম, সেই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণকারীদের গুরুত্ব এখন আর আগের মতো নেই। বরং আন্দোলনের সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে সংগঠনটিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
নতুন দল গড়ে CJP (Cockroach Janata Party)-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মণীশ ব্রহ্মভট্টের:
মণীশের অভিযোগ, নিট-সংক্রান্ত আন্দোলন কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ছিল না। দেশের বহু পড়ুয়া ও সাধারণ মানুষ নিজেদের সময়, শ্রম এবং অর্থ দিয়ে সেই আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন। তাঁর দাবি, সেই আন্দোলন সফল হওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, আন্দোলনটি ছিল গোটা দেশের মানুষের এবং বহু মানুষ রক্ত-ঘাম দিয়ে সেটিকে সফল করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই সাফল্যই ‘বিক্রি করে দেওয়া’ হয়েছে এবং আন্দোলনের মঞ্চে রাজনীতির প্রভাব ঢুকেছে। এই কারণেই নতুন সংগঠন তৈরির প্রয়োজন হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বৃহত্তর অংশের মানুষকে বাদ দিয়ে কোনও সংগঠনের ভবিষ্যৎ ঠিক করা উচিত নয় (Cockroach Janata Party)।
আরও পড়ুন: চরম আর্থিক সঙ্কটে দেশ! তার মধ্যেই একী কাণ্ড পাকিস্তানে? সামনে এল চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি এসেছে সংগঠনের সঙ্গে আম আদমি পার্টির যোগাযোগ নিয়ে। কারও নাম সরাসরি না করলেও মণীশের দাবি, অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি এখন কার্যত ‘টিম কেজরিওয়াল’-এ পরিণত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সংগঠনের কার্যকলাপে আম আদমি পার্টির নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়েছে। মণীশের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ১২ সদস্যের একটি দল তৈরি করেছেন এবং সেখানে আন্দোলনের সময় সক্রিয় থাকা স্বেচ্ছাসেবক বা আন্দোলনকারীদের মতামত নেওয়া হয়নি। আন্দোলনের সাফল্যের পর সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় যাঁরা মাঠে ছিলেন, তাঁদেরই যদি দূরে রাখা হয়, তাহলে সেই সংগঠনের গণভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক বলেও তিনি ইঙ্গিত করেছেন।
অন্যদিকে, মণীশের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে অন্য কারণ দেখছেন সিজেপির সদস্যদের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে সাফল্য আসার পর ককরোচ জনতা পার্টির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। সদস্যসংখ্যাও বাড়তে শুরু করে। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কার মতো পরিচিত মুখদের পাশাপাশি নতুন কয়েকজনকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, সেই কাঠামোয় জায়গা না পাওয়ার কারণেই হয়তো মণীশ ক্ষুব্ধ হয়েছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে মণীশের পক্ষ থেকে এমন কোনও সরাসরি বক্তব্যের কথা সামনে আসেনি যে পদ না পাওয়াই তাঁর দল ছাড়ার কারণ।

আরও পড়ুন: চালকহীন গাড়ির পরিকল্পনাতেই বড় ছাঁটাই! চাকরি যাচ্ছে উবেরের ৩,৩০০ কর্মীর
এদিকে আলাদা দল ঘোষণার পর থেকেই মণীশকে ঘিরে পাল্টা আক্রমণও শুরু হয়েছে। সিজেপির সদস্যদের একাংশ তাঁর আন্দোলনে ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের দাবি, নিট আন্দোলনে মণীশের প্রকৃত ভূমিকা কতটা ছিল, তা তাঁদের কাছে স্পষ্ট নয়। এমনকী তাঁর বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অভিযোগ তোলারও ইঙ্গিত দিয়েছেন কয়েকজন সদস্য। ফলে মাত্র কয়েক মাস আগে আন্দোলনের আবহে তৈরি হওয়া ককরোচ জনতা পার্টির অন্দরেই এখন প্রকাশ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। একদিকে মণীশের নতুন ‘ডেমোক্রেটিক’ সংগঠন, অন্যদিকে পুরনো নেতৃত্বের পাল্টা বক্তব্য—এই সংঘাত আগামী দিনে সিজেপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সংগঠনের জনপ্রিয়তার উপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার (Cockroach Janata Party)।













