বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাটের (Gujarat) ভবনগরে এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবককে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। শনিবারের এই ঘটনার একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে (Social Media) ছড়িয়ে পড়তেই তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তাঁকে পুলিশের গাড়ির সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকী মাটিতে ফেলে দেওয়ার পরও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে ভিডিওটি ঘিরে দাবি উঠেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
গুজরাটে (Gujarat) লিভ-ইন পার্টনারকে খুনের ঘটনায় অভিযুক্তকে পুলিশের বেধড়ক মারের ভিডিও ভাইরাল:
পুলিশের হাতে ধৃত ওই যুবকের নাম ফয়জল ওরফে খাটকি লাখানি। বয়স মাত্র ২০ বছর। তাঁর বিরুদ্ধে ৪০ বছর বয়সি কাজলবেন বারাইয়া নামে এক মহিলাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে দু’জন লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর তাঁদের মধ্যে কোনও বিষয় নিয়ে বচসা হয় বলে অভিযোগ। এরপর ভবনগর বাসস্ট্যান্ডের কাছে কাজলবেনকে ফয়জল মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর বুকে ও পেটে লাথি-ঘুষি মারা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, পাথরের সঙ্গে তাঁর মাথা ঠুকে দেওয়া হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (Gujarat)।
আরও পড়ুন: সবাই যখন PUBG খেলতে ব্যস্ত তখনই পান আইডিয়া! আজ ২৫ কোটি আয় করতে চলেছে আমিরের সংস্থা
ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই পরের দিন কাজলবেনের মৃত্যু হয়। এরপরই তদন্তে নেমে ফয়জলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবেই শনিবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ঘটনাস্থলে। সাধারণত কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ঘটনার পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে তদন্তকারীরা ঘটনার ক্রম ও বিভিন্ন তথ্য যাচাই করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযুক্তকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ সামনে আসায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠছে, তদন্তের নামে কোনও অভিযুক্তের সঙ্গে এমন আচরণ আইনসঙ্গত কি না।
Man Beats Live-In Partner to Death at ST Bus Stand
📍Bhavnagar, Gujarat
A 40-year-old woman died after her 20-year-old live-in partner beat her.
The couple had been living together for 07 years… on the bus stand footpath itself.
Faisal (20), suspected Kajalben Baraiya of… pic.twitter.com/601bU6aHWW
— زماں (@Delhiite_) September 5, 2026
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সমাজমাধ্যমে অবশ্য একেবারে ভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়াও দেখা গিয়েছে। একাংশের বক্তব্য, গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকলেও অভিযুক্তকে এভাবে প্রকাশ্যে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের মতে, অপরাধের তদন্ত ও বিচার আইনি পথেই হওয়া উচিত। আবার অন্য একটি অংশের মানুষ পুলিশের কথিত এই আচরণকে সমর্থন করেছেন। তাঁদের যুক্তি, যে যুবকের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ রয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। ফলে ভিডিওটি ঘিরে সমাজমাধ্যমে কার্যত দুই ধরনের মতামত তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইউরোপের মাটি থেকে প্রথম বাণিজ্যিক রকেট উৎক্ষেপণ! নজির গড়ল এই দেশ
এই ঘটনায় এখন মূল প্রশ্ন উঠছে পুলিশের আচরণ নিয়ে। ফয়জলের বিরুদ্ধে ওঠা খুনের অভিযোগের তদন্ত যেমন চলবে, তেমনই অভিযুক্তকে ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে পুলিশের আচরণ নিয়েও প্রয়োজনীয় তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে ভাইরাল ভিডিওতে যে দৃশ্যগুলি দেখা যাচ্ছে, সেগুলির সত্যতা এবং পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি। কারণ কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই থাকুক, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও আইন মেনে চলার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ভবনগরের এই ঘটনা তাই একদিকে তরুণীর মৃত্যুর তদন্তকে সামনে আনছে, অন্যদিকে পুলিশের ক্ষমতা প্রয়োগের সীমা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে (Gujarat)।













